বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাতিয়ায় রেকর্ড মিলিমিটার বৃষ্টি, অস্বাভাবিক জোয়ার ও ভারী বর্ষণে উপকূল বিপর্যস্ত

হাতিয়ায় রেকর্ড মিলিমিটার বৃষ্টি, অস্বাভাবিক জোয়ার ও ভারী বর্ষণে উপকূল বিপর্যস্ত
হাতিয়ায় রেকর্ড মিলিমিটার বৃষ্টি, অস্বাভাবিক জোয়ার ও ভারী বর্ষণে উপকূল বিপর্যস্ত

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে ফসলের খেত ও মাছের ঘের। পানি ঢুকে পড়েছে হাজারো মানুষের বসতবাড়িতে, যার ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের তীব্রতায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। বিশেষ করে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও মাছের প্রজেক্ট তলিয়ে গেছে। 

এছাড়া মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নিঝুম দ্বীপ, দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে।

এলাকার মানুষের দাবি, বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং উপচে পানি ঢোকার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা সানা উল্যাহ বলেন, একদিকে জোয়ারের পানি, অন্যদিকে ভারী বর্ষণে হাতিয়ার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। অনেকের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুইদিন ধরে ঘরে চুলাই জ্বলেনি, হাঁড়ি ওঠেনি। অথচ এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বা কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।

তমরদ্দি এলাকার স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষী মেহরাজ উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ করে পানি আসায় মাছের ঘের রক্ষা করার কোনো সুযোগ পাইনি। লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। ফসলের খেতও পানির নিচে। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, আর পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব—তা নিয়ে এখন দিশেহারা।

এদিকে জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি বলেন, হাতিয়ার কিছু এলাকার নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে, আবার কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যেসব এলাকার বেড়িবাঁধ দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

তবে দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হলেও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় তাদের গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত সরকারি ত্রাণ সহায়তা এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। 

বিষয় : নোয়াখালী বৃষ্টি হাতিয়া আবহাওয়া অফিস

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


হাতিয়ায় রেকর্ড মিলিমিটার বৃষ্টি, অস্বাভাবিক জোয়ার ও ভারী বর্ষণে উপকূল বিপর্যস্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে ফসলের খেত ও মাছের ঘের। পানি ঢুকে পড়েছে হাজারো মানুষের বসতবাড়িতে, যার ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের তীব্রতায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। বিশেষ করে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও মাছের প্রজেক্ট তলিয়ে গেছে। এছাড়া মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নিঝুম দ্বীপ, দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে।এলাকার মানুষের দাবি, বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং উপচে পানি ঢোকার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা সানা উল্যাহ বলেন, একদিকে জোয়ারের পানি, অন্যদিকে ভারী বর্ষণে হাতিয়ার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। অনেকের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুইদিন ধরে ঘরে চুলাই জ্বলেনি, হাঁড়ি ওঠেনি। অথচ এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি বা কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।তমরদ্দি এলাকার স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষী মেহরাজ উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ করে পানি আসায় মাছের ঘের রক্ষা করার কোনো সুযোগ পাইনি। লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। ফসলের খেতও পানির নিচে। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, আর পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব—তা নিয়ে এখন দিশেহারা।এদিকে জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।সার্বিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি বলেন, হাতিয়ার কিছু এলাকার নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে, আবার কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া যেসব এলাকার বেড়িবাঁধ দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।তবে দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হলেও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় তাদের গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত সরকারি ত্রাণ সহায়তা এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। 

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত