বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাতিয়ায় ৪ দিন ধরে বন্ধ ফেরি চলাচল, বৃষ্টিতে দুর্ভোগে বাসিন্দারা

হাতিয়ায় ৪ দিন ধরে বন্ধ ফেরি চলাচল, বৃষ্টিতে দুর্ভোগে বাসিন্দারা
হাতিয়ায় ৪ দিন ধরে বন্ধ ফেরি চলাচল, বৃষ্টিতে দুর্ভোগে বাসিন্দারা

নোয়াখালীতে টানা ভারী বর্ষণে জনজীবনে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে নদী উত্তাল থাকায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে গত চার দিন ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই পাড়ে পণ্যবাহী শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া আগামী তিন-চারদিন অব্যাহত থাকতে পারে। জেলার নদী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এতে দ্বীপের সাত লাখ লোক বন্দি হয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে সীমিতভাবে সী-ট্রাক ও ট্রলার চলাচল করলেও গত চার দিন পরিবহন পারাপারের ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে পণ্যবাহী যানবাহন আটকে চরম দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে।

চেয়ারম্যান ঘাটে আটকে থাকা ট্রাক শ্রমিক আবদুল লতিফ বলেন, গত চার দিন ফেরি বন্ধ থাকায় হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট ও ওপারে নলচিরা ঘাটে শত শত পণ্যবাহী যান বাহন আটকা পড়েছে। এতে কাঁচা মালামাল নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

মো. আবু নোমান নামে এক ট্রাক শ্রমিক বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় থাকার কোনো সুব্যবস্থা নেই। এতে ঘুমে এবং পয়ঃনিষ্কাশনে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যানবাহনে চালক ও সহকারীরা।

হাতিয়া উপকূলীয় নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ জানান, লঘুচাপের প্রভাবে নদী অতিরিক্ত উত্তাল রয়েছ এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফেরির পন্টুন ডুবে গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষার স্বার্থেই ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্যবাহী গাড়িগুলো পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে আমান বীজতলা বপনে চরম বিপাকে পড়েছে প্রান্তিক কৃষকরা। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

কবিরহাট উপজেলার কৃষক আবদুল মতিন বলেন, এ উপজেলার মরার উপর খাঁড়ার ঘা নোয়াখালী খালে রিকশাওয়ালার দোকান এলাকায় দেওয়া বাঁধ। এ বাঁধ অপসারণ না করলে অল্প বৃষ্টিতে পুরো জেলা আবারও জলমগ্ন হয়ে বন্যা দেখা দেবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল বলেন, জেলাবাসীকে জলমগ্ন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ দিতে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে বামনী নদীতে ক্লাজার বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই নবনির্মিত বামনী রেগুলেটর খুলে দিয়ে রিকশাওয়ালার দোকানের বাঁধ অপসারণ করা হবে।

বিষয় : নোয়াখালী বৃষ্টি হাতিয়া

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


হাতিয়ায় ৪ দিন ধরে বন্ধ ফেরি চলাচল, বৃষ্টিতে দুর্ভোগে বাসিন্দারা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image
নোয়াখালীতে টানা ভারী বর্ষণে জনজীবনে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে নদী উত্তাল থাকায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে গত চার দিন ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই পাড়ে পণ্যবাহী শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে।বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়া আগামী তিন-চারদিন অব্যাহত থাকতে পারে। জেলার নদী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বজায় রাখতে বলা হয়েছে।এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এতে দ্বীপের সাত লাখ লোক বন্দি হয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে সীমিতভাবে সী-ট্রাক ও ট্রলার চলাচল করলেও গত চার দিন পরিবহন পারাপারের ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে পণ্যবাহী যানবাহন আটকে চরম দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে।চেয়ারম্যান ঘাটে আটকে থাকা ট্রাক শ্রমিক আবদুল লতিফ বলেন, গত চার দিন ফেরি বন্ধ থাকায় হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট ও ওপারে নলচিরা ঘাটে শত শত পণ্যবাহী যান বাহন আটকা পড়েছে। এতে কাঁচা মালামাল নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।মো. আবু নোমান নামে এক ট্রাক শ্রমিক বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় থাকার কোনো সুব্যবস্থা নেই। এতে ঘুমে এবং পয়ঃনিষ্কাশনে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যানবাহনে চালক ও সহকারীরা।হাতিয়া উপকূলীয় নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ জানান, লঘুচাপের প্রভাবে নদী অতিরিক্ত উত্তাল রয়েছ এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফেরির পন্টুন ডুবে গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষার স্বার্থেই ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্যবাহী গাড়িগুলো পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।এদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে আমান বীজতলা বপনে চরম বিপাকে পড়েছে প্রান্তিক কৃষকরা। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।কবিরহাট উপজেলার কৃষক আবদুল মতিন বলেন, এ উপজেলার মরার উপর খাঁড়ার ঘা নোয়াখালী খালে রিকশাওয়ালার দোকান এলাকায় দেওয়া বাঁধ। এ বাঁধ অপসারণ না করলে অল্প বৃষ্টিতে পুরো জেলা আবারও জলমগ্ন হয়ে বন্যা দেখা দেবে।জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল বলেন, জেলাবাসীকে জলমগ্ন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ দিতে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে বামনী নদীতে ক্লাজার বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই নবনির্মিত বামনী রেগুলেটর খুলে দিয়ে রিকশাওয়ালার দোকানের বাঁধ অপসারণ করা হবে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত