সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাতে মোবাইল। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত ফেসবুক, গেম, শর্ট ভিডিও কিংবা অনলাইন আড্ডা এভাবেই দিন কাটছে অনেক তরুণের। প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার তৈরি করছে ভয়ংকর আসক্তি। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মোবাইল নির্ভরতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়; বরং এর ভুল ব্যবহারই বড় সমস্যা। একই মোবাইল ফোন দিয়ে কেউ অনলাইনে দক্ষতা শিখে আয় করছে, আবার কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিংয়ে।
বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় দিচ্ছে। রাত জেগে গেম খেলা, শর্ট ভিডিও দেখা কিংবা অকারণে অনলাইনে সময় কাটানোর ফলে কমছে মনোযোগ, বাড়ছে মানসিক চাপ এবং দেখা দিচ্ছে ঘুমের সমস্যা। পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কেও তৈরি হচ্ছে দূরত্ব।
তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারও কম নয়। এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করেই অনেকে ফ্রিল্যান্সিং শিখছে, অনলাইন ব্যবসা করছে, ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা গ্রাফিক ডিজাইনের মতো দক্ষতা অর্জন করছে। ইউটিউব, অনলাইন কোর্স এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রযুক্তিকে নিষিদ্ধ নয়, নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার শেখাতে হবে। পরিবার থেকে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং শিশু-কিশোরদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে মোবাইল ব্যবহার সীমিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি খেলাধুলা, বই পড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল ফোন একদিকে যেমন জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার, অন্যদিকে অপব্যবহারে তা হতে পারে সময় ও মেধা নষ্টের বড় কারণ। তাই প্রযুক্তিকে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদে পরিণত করতে প্রয়োজন সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক ব্যবহার।

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে