রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

পরীক্ষা না দিয়েও এ-প্লাস ছাত্রলীগ কর্মীর

পরীক্ষা না দিয়েও এ-প্লাস ছাত্রলীগ কর্মীর
পরীক্ষা না দিয়েও এ-প্লাস ছাত্রলীগ কর্মীর

নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় মৌখিকে অংশগ্রহণ না করলেও প্রকাশিত ফলাফলের নম্বরপত্রে এ-প্লাস পেয়েছেন মো. সাইফুদ্দিন তারেক নামের এক শিক্ষার্থী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগে অনেকটা চাপে কলেজ প্রশাসন। এমনকাণ্ডের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কলেজ প্রশাসনের এমন কাণ্ডে হতবাক তারা। 

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মো. সাইফুদ্দিন তারেক নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রজীবনে সে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলো, সে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলো। গত ৩০এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় ৭টি বিষয়ে সে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু ৭ জুন হিসাব বিজ্ঞান (২৪২৫১৫) ও ১০জুন হিসাব বিজ্ঞান (২৪২৫১৭) এ দুই বিষয়ে সে অংশগ্রহণ করেনি। সবশেষ ৩আগস্ট মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি তারেক। কিন্তু পহেলা সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় তারেক মৌখিক পরীক্ষায় এ-প্লাস পেয়েছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আমরা তাকে প্রথম ৭দিন পরীক্ষা দিতে দেখেছি। এরপর বাকি ৩টি বিষয় এবং মৌখিক পরীক্ষায় তাকে আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে বা পরীক্ষার হলে দেখিনি। আমরা যারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রশ্ন পেস করেছে আমাদের এ-প্লাস দেওয়া হয়নি, অথচ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে তারেক এ-প্লাস পেয়েছে। তার নম্বর পত্রে ৩টি বিষয়ে অনুপস্থিত আসছে, কিন্তু ওই একই ব্যক্তি কিভাবে স্ব-শরীরে কেন্দ্রে না এসে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে? এমন প্রশ্ন বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

এদিকে সাইফুদ্দিন তারেক এর ফেসবুক আইডি (Md. Saifuddin Tarek) থেকে জানা যায়, গত ১০ জুন সে নিজের আইডিতে পোস্ট করে -আমি গত ০৬-০৬-২০২৬ তারিখ সকাল ৬টায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বিদেশ যাত্রার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে রওনা হই। অথচ একই দিন সন্ধ্যায় আমার নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীতে এই মামলা করা হয়েছে, সেই দিন আমি ঘটনাস্থলে তো দূরের কথা, ঢাকাতেই অবস্থান করছিলাম। তাই এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে কেন, তা আমার বোধগম্য না।

৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন আইডি ও ফেইক প্রোফাইল ব্যবহার করে, সাংবাদিক সমিতির পোস্ট করিয়ে, এমনকি প্রশাসনকে ব্যবহার করেও আমাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে। সর্বশেষ সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই মামলাকে দেখছি।

আমার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে আমি মানুষের ক্ষতি নয়, মানুষের উপকার করেই রাজনীতি করেছি। জীবন বাজি রেখে করোনাকাল থেকে শুরু করে বন্যাকবলিত সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে মানুষের সেবায় কাজ করে গেছি। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। আজ সেটার প্রতিদান হিসেবে একটি মিথ্যা মামলার আসামি হতে হলো। সত্য সাময়িক আড়াল হলেও পরাজিত হয় না।

যারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। ভালোই মামলা বানিজ্য শুরু করেছেন, চালিয়ে যান। আর একটি কথা মনে রাখবেন- ইতিহাস কখনও বিদায় বলে না, ইতিহাস বলে "আবার ফিরে আসব। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। দেখা হবে রাজপথে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

আইডির পোস্টের সূত্র সাইফুদ্দিন তারেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরীক্ষার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি। তবে তিনি জানান কয়েক মাস আগেই তিনি সৌদি আরব চলে এসেছেন।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অনুপম চন্দ্র দাস জানান, তিনি বর্তমানে এই কলেজে কর্মরত নন। ওই পরীক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল কিনা বা তার পরিবর্তে কেউ ফক্সি দিয়েছে কিনা বিষয়টি নিয়ে প্রিন্সিপাল ও বর্তমান বিভাগীয় প্রধানের সাথে কথা বলতে বলেন। তিনি তখন মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে থাকলেও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। 

হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, তৎকালীন যিনি বিভাগীয় প্রধান ছিলেন তিনি বলতে পারবেন। 

জানতে চাইলে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলে তিনি প্রথমে রিসিভ করেন, কথা বলার এক পর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ওই প্রান্ত থেকে কল কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ওই নাম্বারে কল দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

বিষয় : নোয়াখালী ছাত্রলীগ

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পরীক্ষা না দিয়েও এ-প্লাস ছাত্রলীগ কর্মীর

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় মৌখিকে অংশগ্রহণ না করলেও প্রকাশিত ফলাফলের নম্বরপত্রে এ-প্লাস পেয়েছেন মো. সাইফুদ্দিন তারেক নামের এক শিক্ষার্থী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগে অনেকটা চাপে কলেজ প্রশাসন। এমনকাণ্ডের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কলেজ প্রশাসনের এমন কাণ্ডে হতবাক তারা। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মো. সাইফুদ্দিন তারেক নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রজীবনে সে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলো, সে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলো। গত ৩০এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় ৭টি বিষয়ে সে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু ৭ জুন হিসাব বিজ্ঞান (২৪২৫১৫) ও ১০জুন হিসাব বিজ্ঞান (২৪২৫১৭) এ দুই বিষয়ে সে অংশগ্রহণ করেনি। সবশেষ ৩আগস্ট মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি তারেক। কিন্তু পহেলা সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় তারেক মৌখিক পরীক্ষায় এ-প্লাস পেয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আমরা তাকে প্রথম ৭দিন পরীক্ষা দিতে দেখেছি। এরপর বাকি ৩টি বিষয় এবং মৌখিক পরীক্ষায় তাকে আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে বা পরীক্ষার হলে দেখিনি। আমরা যারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রশ্ন পেস করেছে আমাদের এ-প্লাস দেওয়া হয়নি, অথচ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে তারেক এ-প্লাস পেয়েছে। তার নম্বর পত্রে ৩টি বিষয়ে অনুপস্থিত আসছে, কিন্তু ওই একই ব্যক্তি কিভাবে স্ব-শরীরে কেন্দ্রে না এসে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে? এমন প্রশ্ন বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে সাইফুদ্দিন তারেক এর ফেসবুক আইডি (Md. Saifuddin Tarek) থেকে জানা যায়, গত ১০ জুন সে নিজের আইডিতে পোস্ট করে -আমি গত ০৬-০৬-২০২৬ তারিখ সকাল ৬টায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বিদেশ যাত্রার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে রওনা হই। অথচ একই দিন সন্ধ্যায় আমার নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীতে এই মামলা করা হয়েছে, সেই দিন আমি ঘটনাস্থলে তো দূরের কথা, ঢাকাতেই অবস্থান করছিলাম। তাই এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে কেন, তা আমার বোধগম্য না।৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন আইডি ও ফেইক প্রোফাইল ব্যবহার করে, সাংবাদিক সমিতির পোস্ট করিয়ে, এমনকি প্রশাসনকে ব্যবহার করেও আমাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে। সর্বশেষ সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই মামলাকে দেখছি।আমার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে আমি মানুষের ক্ষতি নয়, মানুষের উপকার করেই রাজনীতি করেছি। জীবন বাজি রেখে করোনাকাল থেকে শুরু করে বন্যাকবলিত সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে মানুষের সেবায় কাজ করে গেছি। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। আজ সেটার প্রতিদান হিসেবে একটি মিথ্যা মামলার আসামি হতে হলো। সত্য সাময়িক আড়াল হলেও পরাজিত হয় না।যারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। ভালোই মামলা বানিজ্য শুরু করেছেন, চালিয়ে যান। আর একটি কথা মনে রাখবেন- ইতিহাস কখনও বিদায় বলে না, ইতিহাস বলে "আবার ফিরে আসব। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। দেখা হবে রাজপথে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।আইডির পোস্টের সূত্র সাইফুদ্দিন তারেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরীক্ষার বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি। তবে তিনি জানান কয়েক মাস আগেই তিনি সৌদি আরব চলে এসেছেন।নোয়াখালী সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অনুপম চন্দ্র দাস জানান, তিনি বর্তমানে এই কলেজে কর্মরত নন। ওই পরীক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল কিনা বা তার পরিবর্তে কেউ ফক্সি দিয়েছে কিনা বিষয়টি নিয়ে প্রিন্সিপাল ও বর্তমান বিভাগীয় প্রধানের সাথে কথা বলতে বলেন। তিনি তখন মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে থাকলেও এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, তৎকালীন যিনি বিভাগীয় প্রধান ছিলেন তিনি বলতে পারবেন। জানতে চাইলে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলে তিনি প্রথমে রিসিভ করেন, কথা বলার এক পর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ওই প্রান্ত থেকে কল কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ওই নাম্বারে কল দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত