শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নোবিপ্রবিতে আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের র‍্যালি

নোবিপ্রবিতে আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের র‍্যালি

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সচেতনতামূলক র‍্যালি আয়োজন করেছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি"।

‎ আজ ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে  গিয়ে শেষ হয়।

‎ র‍্যালিতে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্লাকার্ড বহন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— "আমি আছি— কষ্টের কথা বলুন, সাহায্য নিন", "একটি সহানুভূতিশীল কথা কারও কঠিন দিনকে সহজ করে দিতে পারে", এবং "বন্ধুর কষ্ট ছোট করে দেখবেন না"-এর মতো জীবনমুখী আহ্বান।

‎ উক্ত র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান  উদ্দীন।

‎ সংক্ষিপ্ত বক্তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "আত্মহত্যা একটি সামাজিক ব্যাধি। সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়।

‎পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই হার আশঙ্কাজনক। আমাদের ক্যাম্পাসের মেন্টাল হেলথ ক্লাবগুলোকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বাড়াতে অনুরোধ রইল।"

‎ তিনি আরও  বলেন, "ক্লাবের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও আশপাশের মানুষের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারো মধ্যে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি দেখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিবেন তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ নিবেন। এছাড়া ক্যাম্পাসে একজন নারী মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর নিয়োগের জন্য ইউজিসির (UGC) সঙ্গে কথা হয়েছে,আমি আবারও কথা বলবো যাতে দ্রুতই তা বাস্তবায়িত হয়।"

‎ 
‎নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "মানুষের মানসিক অনুভূতির ভারসাম্যহীনতা এবং বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) থেকেই মূলত সুইসাইডাল থট তৈরি হয়। কিন্তু সমাজ বা বন্ধুদের অবহেলা, কটূক্তি বা কাউকেই 'পাগল' আখ্যা দিয়ে টিজ করার কারণে এই নেগেটিভ থিংকিং আরও বেড়ে যায়।

‎এটি কোনো নিরাময়অযোগ্য ব্যাধি নয়; মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের সাময়িক ভারসাম্যহীনতার কারণে এমনটি ঘটে, যা সঠিক চিকিৎসা, একটু সুন্দর ব্যবহার ও সহানুভূতির মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের টিজ না করে বুঝিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পারলেই একটি জীবন বেঁচে যাবে।"

‎ 
‎র‌্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, চীফ মেডিকেল অফিসার (প্রশাসনিক) ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। র‌্যালি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে নোবিপ্রবি শহিদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টার, ব্লাড ব্রিগেড ও স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক।

‎উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ এবং এর সঙ্গে যুক্ত স্লোগান হলো ‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ভেঙে কথা বলা শুরু করুন’।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নোবিপ্রবিতে আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের র‍্যালি

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সচেতনতামূলক র‍্যালি আয়োজন করেছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি"।‎ আজ ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে  গিয়ে শেষ হয়।‎ র‍্যালিতে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্লাকার্ড বহন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— "আমি আছি— কষ্টের কথা বলুন, সাহায্য নিন", "একটি সহানুভূতিশীল কথা কারও কঠিন দিনকে সহজ করে দিতে পারে", এবং "বন্ধুর কষ্ট ছোট করে দেখবেন না"-এর মতো জীবনমুখী আহ্বান।‎ উক্ত র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান  উদ্দীন।‎ সংক্ষিপ্ত বক্তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "আত্মহত্যা একটি সামাজিক ব্যাধি। সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। ‎ ‎পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই হার আশঙ্কাজনক। আমাদের ক্যাম্পাসের মেন্টাল হেলথ ক্লাবগুলোকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বাড়াতে অনুরোধ রইল।"‎ তিনি আরও  বলেন, "ক্লাবের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও আশপাশের মানুষের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারো মধ্যে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি দেখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিবেন তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ নিবেন। এছাড়া ক্যাম্পাসে একজন নারী মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর নিয়োগের জন্য ইউজিসির (UGC) সঙ্গে কথা হয়েছে,আমি আবারও কথা বলবো যাতে দ্রুতই তা বাস্তবায়িত হয়।"‎  ‎নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "মানুষের মানসিক অনুভূতির ভারসাম্যহীনতা এবং বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) থেকেই মূলত সুইসাইডাল থট তৈরি হয়। কিন্তু সমাজ বা বন্ধুদের অবহেলা, কটূক্তি বা কাউকেই 'পাগল' আখ্যা দিয়ে টিজ করার কারণে এই নেগেটিভ থিংকিং আরও বেড়ে যায়। ‎ ‎এটি কোনো নিরাময়অযোগ্য ব্যাধি নয়; মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের সাময়িক ভারসাম্যহীনতার কারণে এমনটি ঘটে, যা সঠিক চিকিৎসা, একটু সুন্দর ব্যবহার ও সহানুভূতির মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের টিজ না করে বুঝিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পারলেই একটি জীবন বেঁচে যাবে।" ‎ ‎  ‎র‌্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, চীফ মেডিকেল অফিসার (প্রশাসনিক) ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। র‌্যালি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে নোবিপ্রবি শহিদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টার, ব্লাড ব্রিগেড ও স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক। ‎উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ এবং এর সঙ্গে যুক্ত স্লোগান হলো ‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ভেঙে কথা বলা শুরু করুন’।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত