শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

গর্ভবতীদের জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান

গর্ভবতীদের জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান
প্রতীকী ছবি

গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে মা ও গর্ভের শিশুর উভয়ের জন্যই জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। ফলে এ সময় বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। ডেঙ্গু হলে তাই শুরু থেকেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রয়োজন।

গাইনি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, গর্ভবতী নারীর জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করানো উচিত। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ সেবন না করার কথাও বলেছেন তারা। পাশাপাশি জ্বরের শুরুতে একবার এবং চার দিন পর আবার ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, বারবার বমি এবং ত্বক বা মুখে লালচে র‌্যাশ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, জ্বর কমতে শুরু করার সময়টিও বিশেষভাবে সতর্ক থাকার। কারণ এ পর্যায়েই ডেঙ্গুর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি।

এ বিষয়ে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক ডা. নাহিদা নাজনীন বলেন, গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুর অন্যতম বড় আশঙ্কা হলো রক্তক্ষরণ। এ কারণে স্বাভাবিক প্রসব কিংবা সিজারিয়ান, উভয় ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর প্রসবের প্রয়োজন হলে আগে থেকেই একাধিক রক্তদাতা প্রস্তুত রাখা উচিত। সন্তান জন্মের পর নবজাতককেও শিশু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

ডা. নাহিদা নাজনীন আরও বলেন, প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই বিশেষ প্রয়োজন না হলে ডেঙ্গু আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর অস্ত্রোপচার বা ব্যথানাশক ওষুধের মাধ্যমে প্রসব করানো উচিত নয়।

তার পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত গর্ভবতী নারীকে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে হবে। দিনে প্রায় ৩ থেকে ৪ লিটার তরল খাবার, যেমন ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন, ফলের রস ও স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত সিবিসির মাধ্যমে প্লাটিলেট পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বাসসকে বলেন, গর্ভবতী নারীরা ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। গর্ভাবস্থায় শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসে, ফলে এ সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, কোনো বাড়িতে গর্ভবতী নারী থাকলে আশপাশের পরিবেশ এডিস মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং বাইরে গেলে ফুলহাতা পোশাক ও মোজা পরার পরামর্শ দেন তিনি।

ড. মুশতাক হোসেনের মতে, গর্ভবতী নারীর জ্বর না থাকলেও কোনো ধরনের অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। কারণ সব ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর উপসর্গ স্পষ্ট নাও হতে পারে। ফলে গর্ভাবস্থায় অসুস্থতাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গর্ভবতীদের জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে মা ও গর্ভের শিশুর উভয়ের জন্যই জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। ফলে এ সময় বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। ডেঙ্গু হলে তাই শুরু থেকেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রয়োজন।গাইনি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, গর্ভবতী নারীর জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করানো উচিত। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ সেবন না করার কথাও বলেছেন তারা। পাশাপাশি জ্বরের শুরুতে একবার এবং চার দিন পর আবার ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ডেঙ্গু আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, বারবার বমি এবং ত্বক বা মুখে লালচে র‌্যাশ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।চিকিৎসকদের মতে, জ্বর কমতে শুরু করার সময়টিও বিশেষভাবে সতর্ক থাকার। কারণ এ পর্যায়েই ডেঙ্গুর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি।এ বিষয়ে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক ডা. নাহিদা নাজনীন বলেন, গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুর অন্যতম বড় আশঙ্কা হলো রক্তক্ষরণ। এ কারণে স্বাভাবিক প্রসব কিংবা সিজারিয়ান, উভয় ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর প্রসবের প্রয়োজন হলে আগে থেকেই একাধিক রক্তদাতা প্রস্তুত রাখা উচিত। সন্তান জন্মের পর নবজাতককেও শিশু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।ডা. নাহিদা নাজনীন আরও বলেন, প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই বিশেষ প্রয়োজন না হলে ডেঙ্গু আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর অস্ত্রোপচার বা ব্যথানাশক ওষুধের মাধ্যমে প্রসব করানো উচিত নয়।তার পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত গর্ভবতী নারীকে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে হবে। দিনে প্রায় ৩ থেকে ৪ লিটার তরল খাবার, যেমন ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন, ফলের রস ও স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যাবে না।তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত সিবিসির মাধ্যমে প্লাটিলেট পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বাসসকে বলেন, গর্ভবতী নারীরা ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। গর্ভাবস্থায় শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসে, ফলে এ সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।তিনি বলেন, কোনো বাড়িতে গর্ভবতী নারী থাকলে আশপাশের পরিবেশ এডিস মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং বাইরে গেলে ফুলহাতা পোশাক ও মোজা পরার পরামর্শ দেন তিনি।ড. মুশতাক হোসেনের মতে, গর্ভবতী নারীর জ্বর না থাকলেও কোনো ধরনের অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। কারণ সব ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর উপসর্গ স্পষ্ট নাও হতে পারে। ফলে গর্ভাবস্থায় অসুস্থতাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত