ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আল মামুনকে ঘিরে বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পতিত আ'লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক হয়রানি এবং মামলার শিকার শিক্ষক আল মামুন চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসায় যোগদানের পর সক্রিয় হয় একটি চক্র। চক্রটি ভূইপুড় বিপথগামী কিছু তথাকথিত গণমাধ্যম কর্মী ভাড়া করে ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে মাদ্রাসাসহ শিক্ষকদের মানহানি করে খোলা পানিতে মাছ শিকারের অব্যাহত রাখছে বলে চাউর আছে।
সরজমিন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকের সাথে আলাপকালে চক্রটির বিষয়টি সামনে আসে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের দাবি তিনি ইনডেক্সধারী ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তৎকালীন সময়ে সরকারদলীয় একটি মহল মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানি করলে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয় অনেক দিন। এই সময় তিনি কোনো বেতন ভাতা গ্রহণ করেন নি।
ভুক্তভোগীর দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মদদেই তাকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ছাত্রজনতার আন্দোলনের সরকার পরিবর্তন হলে তিনি বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করে নিয়ম মেনে গত দুই বছর শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি মহল প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আমার যোগদানের বিষয়টি সামনে এনে জল ঘোলা করতেছে। যা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার ও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অবগত আছে।
এদিকে এমন অপতৎপরতার কারণে সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকের দাবি প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যা অভিযোগ টিকবে না বলে মনে করেন শিক্ষক ,শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অত্র প্রতিষ্ঠানে সরজমিনে অনুসন্ধান করে গভর্নিং বডির সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সুপার, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে যা জানা যায় - তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক আল মামুন এর বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন মুকুল ও প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি আজিজুর রহমান।
ভারপ্রাপ্ত সুপারের বক্তব্য:
আল মামুন প্রায় ২৫ বছর ধরে এই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই (সাবেক সুপারের আমল) তিনি নিযুক্ত হন এবং শিক্ষকের কাজ পরিচালনা করছিলেন।
মাঝে তিনি বেশ কয়েক বছর আসেননি। আমরা জানতে পারি তিনি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণে বা জটিলতায় দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি আজিজুর রহমানের ভাষ্য, মামুন স্যারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই কিছু অভিযোগ এবং তদন্তের বিষয় ছিল। বিলে সই বা অনুমোদন দেওয়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বা সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল।
আইন ও বিধিমোতাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকা পর্যন্ত তাকে সরাসরি প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত বা ক্লাসে ঢুকতে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই।
মামুন স্যারের সাথে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে যদি কোনো মামলা বা সমস্যা থাকে, তবে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি কোনো জালিয়াতি বা প্রতারণা করেছেন কি না—তা সুস্পষ্ট নয়।
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেন যে, আইনানুগ ব্যবস্থা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ব্যতীত তারা নিজ থেকে সরাসরি কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছেন না।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য কী বলছে?
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আল মামুন বর্তমানে নিয়মিত ক্লাস নেন এবং ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে পাঠদান করেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর পড়ানোর পদ্ধতি ও আচরণের প্রশংসা করেছে।
যা বর্তমান শিক্ষকতার মান সম্পর্কে একটি ইতিবাচক তথ্য।
বিষয় : শিক্ষক

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে