মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য মাত্র ১৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের তৃতীয় টেস্ট। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনও ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চতুর্থ দিনের সপ্তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ রানে ফেরেন ক্যারি। এরপর বো ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মিরাজ।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অফস্পিনার। শর্ট লেগে সাদমান ইসলামের ক্যাচে মাত্র ৮ রানে আউট হন কামিন্স। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
অষ্টম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্ক ৪৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ১৮ রান করা স্টার্ককে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।
স্টার্ক ফেরার পর ন্যাথান লায়নকে নিয়ে জুটি গড়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন গ্রিন। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০৪ রানে ফেরেন গ্রিন। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।
গ্রিনের বিদায়ের পর ২৭৮ রানেই নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ন্যাথান লায়নকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ করেন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি লায়ন। ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। জশ হ্যাজেলউড শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ৫৯ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি ইনিংসে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। হাসান মাহমুদ নেন ৩ উইকেট এবং তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।
৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করা এই ওপেনার এবার জশ হ্যাজেলউডের বলে কোনো রান না করেই আউট হন।
এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মোমিনুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাত্র ১৪.২ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ওয়েবস্টারের বলে চার মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মোমিনুল।
সাদমান ৪টি চারে ২৫ এবং মোমিনুল ২টি বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজেলউড নেন একমাত্র উইকেটটি।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ।
এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকায়তে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০, ৯৫.১ ওভার
গ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪; মিরাজ ৫/৬৬
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১, ১৪.২ ওভার
সাদমান ২৫*, মোমিনুল ৩০*; হ্যাজেলউড ১/৫
ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে
ম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে