মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চাঁদপুরে বাপাউবোর প্রকল্পের কাজ শুরুর পূর্বেই সংঘবদ্ধ চক্রের বিভ্রান্তি

চাঁদপুরে বাপাউবোর প্রকল্পের কাজ শুরুর পূর্বেই সংঘবদ্ধ চক্রের বিভ্রান্তি
চাঁদপুরে বাপাউবোর প্রকল্পের কাজ শুরু করতে স্ল্যাব নির্মাণ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা ধনগোদা সেচ প্রকেল্পর আওতাধীন বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ বিগত আওয়ামী সরকারের সময় থেকে চলমান। তবে বোরো আবাদের জন্য বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই উন্নয়ণ কাজ বন্ধ থাকে। সম্প্রতি একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই সংঘবদ্ধ চক্র বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার শুরু করেছে। আর এর সাথে জড়িয়েছে সংস্থার এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে। ব্যাক্তির প্রতি ক্ষোভ দেখাতে গিয়ে দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্পটির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে মনে করেন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সব ধরনের কাজে তদারকি হয় ছয়টি ভাগে। প্রত্যেকটি ভাগের জন্য পৃথক কর্মকর্তা রয়েছে। বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে যেসব টেন্ডার হয়েছে ওইসব কাজ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হয়েছে। এরপর আর কোন কাজ হয়নি। আর এসব কাজ কোন ঠিকাদার শুরু করতে হলে অব্যশই নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমতি নিয়ে করতে হয়।

গত কয়েকবছর এই সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠেনি। কিন্তু কালিপুর এলাকায় প্রকল্পের কাজ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওই কাজটিতে যে কয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহন করে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছিলো স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার ওই কাজটি স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় শুরু হয় বিরোধ। ওই কাজ যেসব প্রতিষ্ঠান পেয়েছে তাদেরকে স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন হুমকি ধমকি দিতে শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে তারা নানা মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে।

ওই চক্রটি মেঘনা ধনাগোদা প্রকল্পের ফরাজিকান্দি ও এখলাছপুর এলাকায় যে অনিয়মের কথা প্রচার করে, মূলত ওই কাজটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সম্পন্ন হয়েছে। আমিন এন্ড কোং নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই কাজ সম্পন্ন করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে কাজ বাস্তবায়ন করেন চাঁদপুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আজিজ এণ্ড ব্রাদার্স। 

আজিজ এণ্ড ব্রাদার্সের সত্ত্বাাধিকারী আজিজ মিয়াজী বলেন, তিনি গত বছর নভেম্বর মাসে প্রকল্পের স্ল্যাব নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। এরপর নির্মাণ সামগ্রী থাকায় তিনি ব্যাক্তিগতভাবে ফরাজিকান্দিতে কিছু স্ল্যাব নির্মাণ তৈরি করে রেখেছেন। এই নির্মাণ কাজের সাথে পাউবোর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। 

এদিকে সংঘবদ্ধ চক্র যে প্রকল্পের অনিয়মের কথা প্রচার করছে। সেটি হচ্ছে কালিপুর এলাকায়। ওই প্রকল্পের কাজটিও করবে আমিন এণ্ড কোং। ওই কাজের সেকশন অফিসার হচ্ছে মো. জুবায়ের। ওই কাজ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। যেখানে কাজ শুরু হয়নি, সেখানে অনিয়ম হওয়ার কোন সুযোগই নেই।

মেঘনা ধনাগোদা পওর বিভাগ চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, সেচ প্রকল্পের বেড়ি বাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ ১২টি প্যাকেজে হচ্ছে। এই কাজ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চলমান থাকে। যেসব কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এগুলো সঠিক নয়। কোন একটি পক্ষ তাদের সুবিধা না পেয়ে এই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছে। এসব কাজের সাথে আমাদের সংস্থার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন কিংবা অন্য কেউ কোন ধরণের অনিয়মের সাথে জড়িত নেই। এসব বিষয় আমি গণমাধ্যমে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ ধরণের অপপ্রচার একটি সংস্থার সুনাম ক্ষুন্ন ছাড়া অন্য কিছু নয়। যদি সত্যিকারে অনিয়ম হয়, তাহলে সঠিক তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হতে পারে।

বিষয় : চাঁদপুর

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


চাঁদপুরে বাপাউবোর প্রকল্পের কাজ শুরুর পূর্বেই সংঘবদ্ধ চক্রের বিভ্রান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা ধনগোদা সেচ প্রকেল্পর আওতাধীন বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ বিগত আওয়ামী সরকারের সময় থেকে চলমান। তবে বোরো আবাদের জন্য বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই উন্নয়ণ কাজ বন্ধ থাকে। সম্প্রতি একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই সংঘবদ্ধ চক্র বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার শুরু করেছে। আর এর সাথে জড়িয়েছে সংস্থার এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে। ব্যাক্তির প্রতি ক্ষোভ দেখাতে গিয়ে দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্পটির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে মনে করেন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সব ধরনের কাজে তদারকি হয় ছয়টি ভাগে। প্রত্যেকটি ভাগের জন্য পৃথক কর্মকর্তা রয়েছে। বেড়িবাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে যেসব টেন্ডার হয়েছে ওইসব কাজ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হয়েছে। এরপর আর কোন কাজ হয়নি। আর এসব কাজ কোন ঠিকাদার শুরু করতে হলে অব্যশই নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমতি নিয়ে করতে হয়।গত কয়েকবছর এই সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠেনি। কিন্তু কালিপুর এলাকায় প্রকল্পের কাজ নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওই কাজটিতে যে কয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহন করে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছিলো স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার ওই কাজটি স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় শুরু হয় বিরোধ। ওই কাজ যেসব প্রতিষ্ঠান পেয়েছে তাদেরকে স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন হুমকি ধমকি দিতে শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে তারা নানা মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে।ওই চক্রটি মেঘনা ধনাগোদা প্রকল্পের ফরাজিকান্দি ও এখলাছপুর এলাকায় যে অনিয়মের কথা প্রচার করে, মূলত ওই কাজটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সম্পন্ন হয়েছে। আমিন এন্ড কোং নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই কাজ সম্পন্ন করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে কাজ বাস্তবায়ন করেন চাঁদপুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আজিজ এণ্ড ব্রাদার্স। আজিজ এণ্ড ব্রাদার্সের সত্ত্বাাধিকারী আজিজ মিয়াজী বলেন, তিনি গত বছর নভেম্বর মাসে প্রকল্পের স্ল্যাব নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। এরপর নির্মাণ সামগ্রী থাকায় তিনি ব্যাক্তিগতভাবে ফরাজিকান্দিতে কিছু স্ল্যাব নির্মাণ তৈরি করে রেখেছেন। এই নির্মাণ কাজের সাথে পাউবোর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এদিকে সংঘবদ্ধ চক্র যে প্রকল্পের অনিয়মের কথা প্রচার করছে। সেটি হচ্ছে কালিপুর এলাকায়। ওই প্রকল্পের কাজটিও করবে আমিন এণ্ড কোং। ওই কাজের সেকশন অফিসার হচ্ছে মো. জুবায়ের। ওই কাজ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। যেখানে কাজ শুরু হয়নি, সেখানে অনিয়ম হওয়ার কোন সুযোগই নেই।মেঘনা ধনাগোদা পওর বিভাগ চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, সেচ প্রকল্পের বেড়ি বাঁধ সুরক্ষায় স্ল্যাব নির্মাণ কাজ ১২টি প্যাকেজে হচ্ছে। এই কাজ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চলমান থাকে। যেসব কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এগুলো সঠিক নয়। কোন একটি পক্ষ তাদের সুবিধা না পেয়ে এই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছে। এসব কাজের সাথে আমাদের সংস্থার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন কিংবা অন্য কেউ কোন ধরণের অনিয়মের সাথে জড়িত নেই। এসব বিষয় আমি গণমাধ্যমে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ ধরণের অপপ্রচার একটি সংস্থার সুনাম ক্ষুন্ন ছাড়া অন্য কিছু নয়। যদি সত্যিকারে অনিয়ম হয়, তাহলে সঠিক তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হতে পারে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত