শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

হাইমচরের জন্য শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ইপিজেড হাইমচরেই বাস্তবায়নের দাবি

চাঁদপুরের হাইমচরের জন্য প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইমচরবাসী। স্থানীয়দের দাবি, হাইমচরের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি হাইমচরেই বাস্তবায়ন করতে হবে।জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাইমচরে বাংলাদেশ স্কাউটসের ৬ষ্ঠ জাতীয় কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি বলেন, হেলিকপ্টারে করে আসার পথে হাইমচরের বিস্তীর্ণ এলাকা তার পছন্দ হয়েছে এবং এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র ও নৌ-ভ্রমণের জন্য বিশেষ স্পট তৈরির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র, নদী বাঁধ, শিল্পাঞ্চল, থানা ও হাসপাতাল নির্মাণের কথাও বলা হয়েছিল। স্থানীয়দের মতে, এসব বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন অবহেলিত ও দুর্গম হাইমচরের সার্বিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।হাইমচরের মধ্যচর এলাকার ভূখণ্ড মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের জীবনমান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।তবে সম্প্রতি প্রস্তাবিত প্রকল্পটি হাইমচর থেকে সরিয়ে চাঁদপুর সদরে নেওয়ার পরিকল্পনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী ১৬ মে চাঁদপুর সফরকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন। কিছুদিন আগে চাঁদপুর_০৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এক সাক্ষাৎকারে জানান- ইপিজেড টি চাঁদপুর সদর হলে ভালো হবে এতে আশে-পাশের জেলার জন্য ও ভালো হবে।এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হাইমচরের ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে “হাইমচরের প্রকল্প হাইমচরেই চাই” শিরোনামে নানা প্রচারণা ও প্রতিবাদ চলছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইমচর বারবার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই হাইমচরের জন্য প্রস্তাবিত এই প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে না নিয়ে এখানেই বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, হাইমচরের মতো দুর্গম অঞ্চলে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।

হাইমচরের জন্য শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ইপিজেড হাইমচরেই বাস্তবায়নের দাবি