বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

প্রস্তুত কোরবানীর হাট, চলছে অনলাইন ও খামারে কেনাবেচা

প্রস্তুত কোরবানীর হাট, চলছে অনলাইন ও খামারে কেনাবেচা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি করেছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনগুলো। 
এ বছর সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে।

এর মধ্যে রাজধানীতে মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)’র আওতায় থাকছে ১১টি হাট। 

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)’র এলাকায় ১৬টি হাট বসবে, যার মধ্যে গাবতলির স্থায়ী হাটটিও অন্তর্ভুক্ত।

এদিকে প্রচলিত হাটের পাশাপাশি অনলাইন ও খামারভিত্তিক বিক্রয়েও ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে বাড়ি থেকে পশু বাছাই করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। 

বিভিন্ন খামারসূত্রে জানা গেছে, অনেক খামারে কোরবানির বেশকিছু পশুই ইতোমধ্যেই বিক্রির শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কোরবানির চাহিদার তুলনায় এ বছর দেশব্যাপী গবাদিপশুর মজুত পর্যাপ্ত হওয়ায়, কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। 

তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই এ বছর কোরবানির পশুর সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো অবৈধ পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের প্রতি কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

মন্ত্রী নিশ্চিত করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে এবং যত্রতত্র বা রাস্তার ওপর কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না।

মৎস ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজ উৎপাদিত কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। 

আমিন উর রশিদ বলেন, ‘দেশীয় খামারিগণের উৎপাদন এখন এতটাই সমৃদ্ধ হয়েছে যে আমদানি বা বাইরের উৎসের প্রয়োজন নেই। দেশীয় উৎপাদন দিয়েই কোরবানির সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা যাবে।’

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ বছর ঢাকায় মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় হবে। 

দুই সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তারা বাসসকে জানিয়েছেন, হাটগুলোর ইজারাদার নির্ধারণে ইতোমধ্যেই দরপত্র আহ্বান ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়াও এখন প্রায় শেষের দিকে। 

ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বাসসকে জানান, ডিএসসিসি এলাকায় ১১টি স্থানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের ঘোষিত ১১টি হাটের মধ্যে ৯টিতে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দর পাওয়া গেছে, তবে দু’টি হাটের দর সন্তোষজনক না হওয়ায় এই দুইটি হাটের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাদের হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডিএসসিসি’র আওতাধীন অস্থায়ী হাটগুলো বসবে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিমাংশে নদীর পাড়ের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী সংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি স্থান, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা ও শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায়। 

এছাড়া আফতাবনগরের বিভিন্ন ব্লক, শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন এলাকা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গা, দয়াগঞ্জ থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার স্থান, বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি এলাকা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশ্ববর্তী জমি ও গোলাপবাগ স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর দিকে অস্থায়ী হাট বসানো হবে।

অন্যদিকে, ডিএনসিসি’র অস্থায়ী হাটগুলো হবে মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এলাকায়, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের ১৬ বিঘা খালি জায়গায়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন এলাকায়, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গায় ও পূর্ব হাজীপাড়ায় ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গায়।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা-সংলগ্ন খালি জায়গায়, উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরুসংলগ্ন বউবাজার এলাকায়, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত এলাকায়, কাঁচকুড়া বাজারুসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায়, মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ায়, ভাটারা সুতিভোলা খাল-সংলগ্ন খালি জায়গায়, বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, মহাখালি টিএন্ডটি মাঠের জায়গা, বাড্ডা থানাধীন স্বদেশ প্রপার্টিও খালি জায়গা ও বড় বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় পশুর হাট বসবে।

ডিএনসিসি’র ১০টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। ইজারা পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে, মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা), মিরপুর কালশী বালুর মাঠ (৩০ লাখ ১১ হাজার টাকা), ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা), ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশে (১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা), ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর (২৭ লাখ টাকা), খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৭ লাখ টাকা), বনরুপা আবাসিক প্রকল্প এলাকা (১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকা), বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজ (২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা) এবং বড় বেরাইদে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গা (৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা)।

ডিএনসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বাসসকে জানান, যে ১০টি হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর মিললে সম্পত্তি বিভাগ থেকে ইজারা দেওয়া হবে।

দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রয়-বিক্রয় চলবে। 

কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে দুই সিটি কর্পোরেশন। 
সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং প্রতিটি বড় হাটে একাধিক ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে যারা প্রতিটি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। 

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ছাড়া কোনো পশুকে হাটে তোলা যাবে না। নিরাপত্তার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনগুলো আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে।

প্রত্যেক হাটে আলো, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অস্থায়ী হাটগুলোতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ দূষণ রোধে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে যাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।

এদিকে কোরবানির পশুর হাটের পাশাপাশি অনলাইনে গরু-ছাগল কেনাবেচা এখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খামার মালিকদের অনেকেই নিজস্ব ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। 
অনলাইনে পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো অতিরিক্ত ‘হাসিল’ বা খাজনা দিতে হবে না বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।

ক্রেতারা অনলাইনে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন, খাদ্যতালিকা ও খামারের অবস্থানকে দেখে সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। এতে সময় বাঁচছে, হাটের ভিড়ও এড়ানো যাচ্ছে। বিশেষত যেসব ক্রেতা নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে হাটে যেতে চান না, তাদের জন্য ডিজিটাল হাট একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার খামারগুলোতে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। 

খিলগাঁও ও আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রচুর খামার থাকায় অনেকেই আগেভাগেই খামারে যাচ্ছেন গরু দেখতে, ওজন যাচাই করতে এবং দরদাম ঠিক করতে। 

খামারে গিয়ে পশু কেনার সুবিধা হলো এবং হাটের ভিড় নেই, পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কম এবং সরাসরি খামার মালিকের কাছ থেকে পশুর যত্ন, খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


প্রস্তুত কোরবানীর হাট, চলছে অনলাইন ও খামারে কেনাবেচা

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি করেছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনগুলো। এ বছর সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি অস্থায়ী ও স্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে।এর মধ্যে রাজধানীতে মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)’র আওতায় থাকছে ১১টি হাট। অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)’র এলাকায় ১৬টি হাট বসবে, যার মধ্যে গাবতলির স্থায়ী হাটটিও অন্তর্ভুক্ত।এদিকে প্রচলিত হাটের পাশাপাশি অনলাইন ও খামারভিত্তিক বিক্রয়েও ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে বাড়ি থেকে পশু বাছাই করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন খামারসূত্রে জানা গেছে, অনেক খামারে কোরবানির বেশকিছু পশুই ইতোমধ্যেই বিক্রির শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।কোরবানির চাহিদার তুলনায় এ বছর দেশব্যাপী গবাদিপশুর মজুত পর্যাপ্ত হওয়ায়, কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই এ বছর কোরবানির পশুর সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো অবৈধ পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের প্রতি কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী নিশ্চিত করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে এবং যত্রতত্র বা রাস্তার ওপর কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না।মৎস ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজ উৎপাদিত কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। আমিন উর রশিদ বলেন, ‘দেশীয় খামারিগণের উৎপাদন এখন এতটাই সমৃদ্ধ হয়েছে যে আমদানি বা বাইরের উৎসের প্রয়োজন নেই। দেশীয় উৎপাদন দিয়েই কোরবানির সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা যাবে।’পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ বছর ঢাকায় মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় হবে। দুই সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তারা বাসসকে জানিয়েছেন, হাটগুলোর ইজারাদার নির্ধারণে ইতোমধ্যেই দরপত্র আহ্বান ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়াও এখন প্রায় শেষের দিকে। ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বাসসকে জানান, ডিএসসিসি এলাকায় ১১টি স্থানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের ঘোষিত ১১টি হাটের মধ্যে ৯টিতে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দর পাওয়া গেছে, তবে দু’টি হাটের দর সন্তোষজনক না হওয়ায় এই দুইটি হাটের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাদের হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।ডিএসসিসি’র আওতাধীন অস্থায়ী হাটগুলো বসবে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিমাংশে নদীর পাড়ের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী সংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, রহমতগঞ্জ ক্লাবের খালি স্থান, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা ও শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায়। এছাড়া আফতাবনগরের বিভিন্ন ব্লক, শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন এলাকা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল পর্যন্ত রাস্তার খালি জায়গা, দয়াগঞ্জ থেকে জুরাইন রেলক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার স্থান, বনশ্রী হাউজিংয়ের খালি এলাকা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশ্ববর্তী জমি ও গোলাপবাগ স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর দিকে অস্থায়ী হাট বসানো হবে।অন্যদিকে, ডিএনসিসি’র অস্থায়ী হাটগুলো হবে মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং) এলাকায়, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের ১৬ বিঘা খালি জায়গায়, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন এলাকায়, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার সংলগ্ন খালি জায়গায় ও পূর্ব হাজীপাড়ায় ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গায়।এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট রাস্তা-সংলগ্ন খালি জায়গায়, উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরুসংলগ্ন বউবাজার এলাকায়, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নম্বর সেক্টর রানাভোলা অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত এলাকায়, কাঁচকুড়া বাজারুসংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকায়, মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ায়, ভাটারা সুতিভোলা খাল-সংলগ্ন খালি জায়গায়, বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, মহাখালি টিএন্ডটি মাঠের জায়গা, বাড্ডা থানাধীন স্বদেশ প্রপার্টিও খালি জায়গা ও বড় বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় পশুর হাট বসবে।ডিএনসিসি’র ১০টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। ইজারা পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে, মিরপুর সেকশন-৬ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন খালি জায়গা (১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা), মিরপুর কালশী বালুর মাঠ (৩০ লাখ ১১ হাজার টাকা), ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা), ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশে (১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা), ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপকুড়া বাজার সংলগ্ন রহমান নগর (২৭ লাখ টাকা), খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন খালি জায়গা (৩ কোটি ৭ লাখ টাকা), বনরুপা আবাসিক প্রকল্প এলাকা (১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকা), বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টিজ (২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা) এবং বড় বেরাইদে বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গা (৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা)।ডিএনসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বাসসকে জানান, যে ১০টি হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি হাটে কাঙ্ক্ষিত দর মিললে সম্পত্তি বিভাগ থেকে ইজারা দেওয়া হবে।দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রয়-বিক্রয় চলবে। কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে দুই সিটি কর্পোরেশন। সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং প্রতিটি বড় হাটে একাধিক ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে যারা প্রতিটি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ছাড়া কোনো পশুকে হাটে তোলা যাবে না। নিরাপত্তার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনগুলো আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে।প্রত্যেক হাটে আলো, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অস্থায়ী হাটগুলোতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ দূষণ রোধে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে যাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।এদিকে কোরবানির পশুর হাটের পাশাপাশি অনলাইনে গরু-ছাগল কেনাবেচা এখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খামার মালিকদের অনেকেই নিজস্ব ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। অনলাইনে পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কোনো অতিরিক্ত ‘হাসিল’ বা খাজনা দিতে হবে না বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।ক্রেতারা অনলাইনে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন, খাদ্যতালিকা ও খামারের অবস্থানকে দেখে সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। এতে সময় বাঁচছে, হাটের ভিড়ও এড়ানো যাচ্ছে। বিশেষত যেসব ক্রেতা নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে হাটে যেতে চান না, তাদের জন্য ডিজিটাল হাট একটি বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করছে।রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার খামারগুলোতে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। খিলগাঁও ও আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রচুর খামার থাকায় অনেকেই আগেভাগেই খামারে যাচ্ছেন গরু দেখতে, ওজন যাচাই করতে এবং দরদাম ঠিক করতে। খামারে গিয়ে পশু কেনার সুবিধা হলো এবং হাটের ভিড় নেই, পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কম এবং সরাসরি খামার মালিকের কাছ থেকে পশুর যত্ন, খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত