আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, নদীমাতৃক জনপদ চাঁদপুর জেলা জেলা দিবস। এই দিনেই প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে চাঁদপুর পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পদ্মা ও মেঘনার মিলনভূমিতে গড়ে ওঠা এ জনপদ আজ ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
১৯৬০ খ্রি. পর্যন্ত এ জেলার নাম ছিল ত্রিপুরা জেলা। যা ৪টি মহকুমা নিয়ে গঠিত ছিল। সেগুলো হলো ত্রিপুরা সদর উত্তর, ত্রিপুরা সদর দক্ষিণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর। ত্রিপুরার ২১টি থানা ও ৩৬২টি ইউনিয়ন কাউন্সিল ছিল। চাঁদপুর মহকুমায় চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও মতলব নামে ৫টি থানা ছিলো।
ঔপনিবেশিক আমল থেকেই চাঁদপুর ছিল নদীপথকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে রেলস্টেশন ও নদীবন্দর স্থাপিত হওয়ায় এ অঞ্চল দ্রুত অর্থনৈতিক গুরুত্ব অর্জন করে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে জেলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—চাঁদপুর সদর উপজেলা, হাইমচর উপজেলা, মতলব উত্তর উপজেলা, মতলব দক্ষিণ উপজেলা, ফরিদগঞ্জ উপজেলা, হাজীগঞ্জ উপজেলা ও কচুয়া উপজেলা—যেগুলো কৃষি, মৎস্য ও বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চাঁদপুরের পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু হলো— চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা হলো পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর এক অপূর্ব মিলনস্থল, যা ‘বড় স্টেশন মোলহেড’ নামেও পরিচিত। দেশের সেরা ইলিশের জন্য এ জেলা বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার লঞ্চঘাট ও রেলওয়ে যোগাযোগ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও অন্যান্য জেলার সংযোগ স্থাপনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন ও নদীবন্দর দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীল রেখেছে।
২০১৭ সালে দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে চাঁদপুর স্বীকৃতি পায়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অবদান। বিভিন্ন স্থানে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিচিহ্ন আজও স্বাধীনতার ইতিহাস বহন করছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, মেলা ও লোকজ ঐতিহ্য এই জেলাকে করেছে বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত।
নদীভাঙন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ থাকলেও চাঁদপুর এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ ও কৃষিভিত্তিক উৎপাদন এ জেলার উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।
জেলা দিবসে চাঁদপুরবাসীর প্রত্যাশা—উন্নয়ন হবে টেকসই, নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে আরও অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।
চাঁদপুর কেবল একটি প্রশাসনিক জেলা নয়; এটি নদী ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রতীক, ইতিহাসের ধারক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল নাম।

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে