নোয়াখালী ছয়টি আসনে মোট ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে ৩৫ জনের জামানত বাতিল হয়েছে। মোট গৃহীত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী-১ আসনে সাত জনের মধ্যে পাঁচ জনের, নোয়াখালী-২ আসনে পাঁচ জনের মধ্যে দুই জনের, নোয়াখালী-৩ আসনে সাত জনের মধ্যে পাঁচ জনের, নোয়াখালী-৪ আসনে সাত জনের মধ্যে পাঁচ জনের, নোয়াখালী-৫ আসনে ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের ও নোয়াখালী-৬ আসনে ১০ জনের মধ্যে আট জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এখানে ১৪২ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৩৪জন। এতে কাঙ্ক্ষিত ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন পাঁচ জন। এরা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের জহিরুল ইসলাম (১৯২৮৯ ভোট), জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন (১০৭৫ ভোট), জেএসডির মো. মশিউর রহমান (৪৮২ ভোট), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মমিনুল ইসলাম (২৭৪ ভোট), ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী (১৮৮ ভোট) ও জেএসডির রেহানা বেগম (৪৮২ ভোট)।
এ আসনে এক লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন (ধানের শীষ) জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট।
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬০ হাজার ৮২ জন। এখানে ১১২ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট দুই লাখ আট হাজার ১০৭। এ আসনে দুই জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের খলিলুর রহমান (৬২১৭ ভোট) ও জাতীয় পার্টির মো. শাহাদাৎ হোসেন পেয়েছেন (৫৫৭ ভোট)।
এ আসনে ৮৩ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক (ধানের শীষ)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাহী পর্ষদের সদস্য সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৭১২ ভোট।
নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১১ হাজার ৭৫৯জন। এখানে ১৬৭ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ৮৩ হাজার ৮১৮। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুর উদ্দিন (১৮৬১ ভোট), খেলাফত মজলিসের মোরশেদ আলম (৮০০ ভোট), জেএসডির মো. সিরাজ মিয়া (৭৪৭ ভোট), মো. রাজিব উদদৌলা চৌধুরী (৫৩৪ ভোট) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ আহমেদ (২৬০ ভোট)।
এ আসনে এক লাখ ৪১ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. বরকত উল্লাহ বুলু (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন এক লাখ ২৩ হাজার ৯৪১ ভোট।
নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে মোট ভোটার সাত লাখ ৩৩৮জন। এখানে ১৯৯ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট তিন লাখ ৯৮ হাজার ৬৮৩। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের মো. ফিরোজ আলম মাসুদ (১৪৭৮৩ ভোট), জাতীয় পার্টির মো. শরিফুল ইসলাম (২৩৪৪ ভোট), বাসদের (মার্কসবাদী) বিটুল চন্দ্র তালুকদার (৯১৭ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের আবদুজ জাহের (৫৪২ ভোট) ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. ইউনুস নবী (৪৯৩ ভোট)।
এ আসনে দুই লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির মো. ইসহাক খন্দকার (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন এক লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট।
নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে মোট ভোটার পাঁচলাখ তিন হাজার ৮৫২ জন। এখানে ১৫৬ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৯১ হাজার ৩৬৯। এখানে ১০জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের আবু নাছের (৬২২৪ ভোট), জনতার দলের মো. শওকত হোসেন (৪৮৫৫ ভোট), জাতীয় পার্টির খাজা তানভীর আহমেদ (১৬৮৪ ভোট), জেএসডির মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী (৫৭৪ ভোট), ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ শামছুদ্দোহা (২৭৭ ভোট), বাসদের (মার্কসবাদী) মুন তাহার বেগম (১৭৩ ভোট), ইনসানিয়াত বিপ্লবের তৌহিদুল ইসলাম (১৬২ ভোট), বিআরপির মোহাম্মদ আনিছুল হক (১৪১ ভোট) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর আলী (৮১৪ ভোট) ও মুহাম্মদ ইউনুছ (১৩৩ ভোট)
এ আসনে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে বিএনপির উপজেলা সদস্য শিল্পপতি মো. ফখরুল ইসলাম (ধানের শীষ) জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের উপজেলা আমির মো. বেলায়েত হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬। এখানে ১০৫ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২। এ আসনে আটজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
তারা হলেন- স্বতন্ত্র সাবেক এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (৪৭৮৩ ভোট) ও বিএনপির বহিষ্কৃত তানবীর উদ্দিন রাজিব (৩৭৬৪ ভোট)। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ (২১৯৭ ভোট), জেএসডির মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব (১২৩৯ ভোট), বিএসপির আমিরুল ইসলাম মো. আবদুল মালেক (৫০৫ ভোট), জাতীয় পার্টির এটিএম নাবী উল্যাহ (২৮০ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (১৯১ ভোট) এবং এলডিপির মোহাম্মদ আবুল হোসেন (৮৬ ভোট)।
এ আসনে ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ (শাপলা কলি) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই এসব ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে