চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাতাশ লাখ মানুষের বসবাস। সব বয়সী মানুষের জন্য ছোটখাট বিনোদন কেন্দ্র থাকলেও শিশুদের জন্য খুবই কম। তবে কয়েকজন উদ্যোক্তা ছোট পরিসরে হলেও কিড্স কিংডম নামে বিনোদন কেন্দ্র তৈরী করে শিশুদের সময় কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। বলা যেতে পারে এটি এখন চাঁদপুরের অন্যতম শিশু বিনোদন কেন্দ্র। উদ্যোক্তারা এটিকে নিয়ে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন। সরকারিভাবে সহায়তার আশ্বাস দিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।সরেজমিন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের পূর্বে পাশে খুবই নিরিবিলি পরিবেশে তৈরী হয়েছে কিডস কিংডম। দিনের বেলায় শিশুদের আগমন কম থাকলেও বিকেলে শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে এখানে শিশুদের আগমন ঘটে। বিনোদনের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি রাইডার। সিসিটিভি ক্যামেরাসহ শিশুদের জন্য রয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।মূলত উৎসব কেন্দ্রিক বিনোদন কেন্দ্রটি মুখোরিত হয়ে উঠে। বিশেষ করে শিশুদের বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিশু ও তাদের অভিভাবকরা এখানে এসে সময় কাটান। বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভালো সময় কাটাতে পারেন শিশুরা। এটি আভ্যন্তরে খাবার, সেনিটেশন ও প্রার্থনার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।ঘুরতে আসা কয়েকজন শিশু জানালেন, এখানে খেলা-ধুলা ও সময় কাটানোর জন্য বেশ কয়েকটি রাইডার রয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রটি ভালো লেগেছে তাদের। আরো নতুন রাইডার এবং স্থানটি বড় হলে তাদের জন্য ভালো হয়।অভিভাবক হ্যাফি আক্তার বলেন, পারিবারিক ও পেশাগত কারণে শিশুদের সময় দিতে পারেন না। কিন্তু এখানে কিছুটা সময় হলেও নিরাপত্তার সাথে শিশুরা বিনোদন করার সুযোগ পাচ্ছে।আরো কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিনোদন কেন্দ্রটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই সুন্দর। কিন্তু স্থানটি ছোট। আরো বড় পরিসরে হলে শিশুরা ছুটাছুটি করার সুযোগ পাবে।উদ্যোক্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখলা শিশুদের জন্য কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। বিভিন্ন স্থানে খাবারের দোকান ও সময় কাটানোর কেন্দ্র গড়ে উঠলেও একান্ত শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। মূলত এই কারণে কিডস কিংডম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। আমাদের বিনিয়োগ কম। সরকারিভাবে সহায়তা পেলে আমাদের জন্য এটি চালু রাখা সহজ হবে। আপাতত এই স্থানটি ইজারা নিয়ে আমরা শুরু করেছি।বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে উঠায় উদ্যোক্তাদের স্বাগত জানিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম.এন জামিউল হিকমা বলেন, শহরতলীতে শিশুদের জন্য যে পার্কটি গড়ে উঠেছে এটিকে শিশুবান্ধব করে তুলতে সহায়তা দেয়া হবে। পাশাপাশি এটির আশপাশে যত শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদেরকেও এটিতে আসার জন্য বলা হবে।