বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা তারা বলে না!

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এসব কর্মসূচির অর্থ কোথা থেকে আসবে তা স্পষ্ট করছে না একটি রাজনৈতিক দল। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত ক্যারাভ্যান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট দলটি শুধু কী কী খরচ করবে, তা বলছে; কিন্তু সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ধারণা দিচ্ছে না। এর ফলে ভবিষ্যতে এসব কার্ড বাস্তবায়নের নামে ভ্যাট বাড়িয়ে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। আবার আশঙ্কা রয়েছে, এসব সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে কেবল দলীয় লোকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এতে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি আরও বাড়বে।তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর একটি দল সরকারে এসে ১০ টাকায় চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের নামে দেশকে ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। এবার জনগণ অনেক বেশি সচেতন। টানা ১৬ বছর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এখন আর সস্তা প্রচারণা দিয়ে কিংবা ভোট কেনার কৌশলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়।গণভোট প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো ছিল সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নানা কৌশলে মানুষকে সে দিকেই প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কার কমিশন গঠনের সময়ও ওই দলটি প্রশ্ন তুলেছিল।এই সরকার কেন সংস্কার করবে এবং গণ–অভ্যুত্থানের পর কোনো সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না।নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণকে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ যদি এনসিপিকে পছন্দ না-ও করেন বা দলকে ভোট না-ও দেন, তবুও অন্তত সংস্কারের স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি।তিনি আরও বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবার দায়িত্ব গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়া। কারণ ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে এবং গণ–অভ্যুত্থানের পর যে ফ্যাসিবাদী ও অকার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল, তা আংশিক হলেও বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে ‘না’ জয়ী হলে পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল থাকবে এবং গণ–অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে।

ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা তারা বলে না!