অবৈধভাবে নদীর বালু উত্তোলন আমরা কেউ সমর্থন করবো না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, নদীর কোল ঘেষে চাঁদপুর জেলা গড়ে উঠেছে। তাই খাল খননের পাশাপাশি নদীগুলো রক্ষা করতে হবে। নদী রক্ষা না হলে নদীর পাশের জেলাগুলো বিপদে পড়বে। আর এসব নদী থেকে পরিকল্পতিভাবে বালু উত্তোলন না করলে বসতি ভেঙে নদী গর্ভে যাবে। তখন সেখানকার বাসিন্দারা ছিন্নমূল হয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিবে। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে আমরা কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে সমর্থন করবো না।বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টি চাঁদপুর সদর উপজেলার আয়োজনে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, এখন আমাদেরকে ওয়াদা করতে হবে আর কেউ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করবে না, নদীকে শ্রদ্ধা করবে। কারণ এই নদীতে আপনার জীবীকা। এই নদী যতদিন বেঁচে থাকবে, আপনিও বেঁচে থাকবেন।নাসীরউদ্দীন বলেন, চাঁদপুরের ব্যবসা বাণিজ্যসহ অনেক সুনাম ছিলো। কিন্তু যারাই বিগত দিনে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা চাঁদপুরের দিকে নজর দেয়ার সময় ছিলো না। আগেও চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী ছিলো এখনো আছে। মন্ত্রী আসে যায়, কিন্তু চাঁদপুরের শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। চাঁদপুর সরকারি কলেজসহ যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোর মান উন্নয়নে আমাদের নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, আপনারা ভোট পেয়ে ঢাকায় গিয়ে মন্ত্রী হয়ে চাঁদপুরের কথা ভুয়ে যায়েন না। বারবার নাড়ির টানে ফিরে আসতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশের নমুনা হচ্ছে-আপনি যদি অমুক দলের পোস্টে থাকেন তাহলে আপনি ভিসি হতে পারবেন, আপনি যদি নির্বাচনে পরাজিত হন, তাহলে আপনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারবেন। কিন্তু দলীয় যে কোটার নিয়ম এটার বিরুদ্ধেই আমাদের আন্দোলন হয়েছিলো। তখন আপনারা বলেছিলেন কোটা না মেধা। কিন্তু এখন কোটায় নিয়োগ হচ্ছে। আপনারা দেখেন বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগ হয়েছে সোয়েটার ব্যবসায়ী।তিনি আরো বলেন, আমরা দেখছি আওয়ামী লীগ আবার পুনর্বাসিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এদের পুনর্বাসন বন্ধ করতে হবে। কারো যদি তাদের প্রতি এত পিরিত থাকে, তাহলে ভারতে শেখ হাসিনার কাছেই চলে যান।এই নেতা বলেন, অবৈধভাবে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যাদের বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই, তারা যেন কোনোভাবেই কাজ করতে না পারে সে বিষয়ে স্থানীয়দের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যারা নামে-বেনামে ঠিকাদারি করতে আসে, তাদের চিহ্নিত করে বড় বড় খালি গাছের সাথে বেঁধে আটক রেখে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবেন।ইফতার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী তামিম খান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জেলা শাখার আহবায়ক সাগর হোসেন।চাঁদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।