বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঈদ ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ

বিগত প্রায় ৪বছর পূর্বে চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণ কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। ঘাটের পন্টুনের সাথে সিঁড়িগুলো অনেক উঁচু। নেই বিশ্রামাগার। ঘাটে থাকা পরিবহনে অব্যবস্থাপনা। সব মিলিয়ে একটি হযবরল অবস্থা। যার ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লঞ্চে আসা যাত্রীরা ঘাটে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র উল্টো।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমনি লঞ্চঘাটে অপেক্ষা করে দেখাগেছে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র। বিশেষ করে যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নামলে ঘাটে থাকা সিএনজি চালিত অটোরিকশা, অটোবাইক চালকদের মালপত্র নিয়ে টানাটানি বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরী হচ্ছে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদেরকে।খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঈদ উপলক্ষে বিআই ডাব্লিউটিএর প্রকৌশল বিভাগ যাত্রী চলাচলে কিছুটা মেরামত কাজ করলেও তাতে হাজার হাজার যাত্রীর দুর্ভোগ কমছে না।ঘাটে লঞ্চের জন্য অপেক্ষমান যাত্রী রোকসানা বেগম বলেন, ঢাকায় যাব। লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু বিশ্রামাগার না থাকায় খোলা আকাশের নীচে বসে থাকতে হচ্ছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। শিশুদের নিয়ে অনেক বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। দুর থেকে আসা সকল যাত্রীই এখন একই পরিস্থিতির শিকার। আরেক যাত্রী আব্দুর রউফ বলেন, ঈদে মানুষ বাড়িতে আসা আনন্দ করার জন্য। কিন্তু লঞ্চ থেকে নামলে কুলিরা মালপত্র নিয়ে টানাটানি করে। এরপর অটো চালকদের টানাটানি। এসব বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।ঢাকাগামী আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, লঞ্চে যাতায়াত করে নিরাপদ ভ্রমণ হিসেবে। কিন্তু এই লঞ্চঘাটে অব্যবস্থপনার কারণে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে গাড়ি চালকরা বেশি হয়রানি করে। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী তারা যেন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম ইকবাল হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে লঞ্চঘাটের যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নৌ পুলিশ ২৪ঘন্টা দায়িত্ব পালন করছে। ঈদের পরেও নৌপুলিশ ঘাটে দায়িত্ব পালন করবে।চাঁদপুর নৌ বন্দরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের নৌ বন্দরের নির্মাণ কাজ চলমান। যে কারণে অস্থায়ী ঘাট দিয়ে যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লঞ্চঘাটে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। আশা করছি যারা ঘাটে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের তত্ত্বাবধান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যাত্রী সেবা নিশ্চিত হবে।

নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঈদ ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ