বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে চবি প্রশাসনের পদত্যাগ চায় ছাত্রদল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবিতে প্রশাসনের পদত্যাগ চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এ দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এ. আর. মল্লিক ভবন (প্রশাসনিক ভবন)-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন পালন করে সংগঠনটি।কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত সময়ে নিয়োগের নামে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ হয়েছে। এসব অনিয়মের দায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ করতে হবে। তিনি জানান, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে। দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, সহ-উপাচার্যের মেয়ে, শিক্ষকের ভাই, শালি কিংবা জামাই কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে জবাব দিতে হবে। নিয়োগ যদি সত্যিই স্বচ্ছ হয়ে থাকে, তাহলে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অভিযোগযুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দায়ীদের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি।শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যাশায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেই প্রত্যাশা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ কার্যক্রম চালাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিভিন্ন বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি থেকে আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনসহ প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের নেতৃত্বে গত ১৫ মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও অন্তত তিন শতাধিক জনকে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।এসব নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি ও দল ভারী করার অভিযোগ তুলে উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, লিখিত, মৌখিক ও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। গত দেড় বছরে অনেকেই চাকরি ছেড়ে যাওয়ায় নতুন নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে ইউজিসি জানিয়েছে, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, তবে নিয়ম মেনে নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো বাধা নেই।

স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে চবি প্রশাসনের পদত্যাগ চায় ছাত্রদল