রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬
The Dhaka News Bangla

কাতারের পর জর্ডানেও মার্কিন রাডার ধ্বংস করল ইরান

কাতারের পর জর্ডানেও মার্কিন রাডার ধ্বংস করল ইরান
ছবি সংগৃহীত

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস করেছে। এই রাডারের মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার, এবং এর ধ্বংসের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সক্ষমতা ভবিষ্যতে হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গ সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, সিএনএনের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে সংঘাতের শুরুতেই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত আরটিএক্স করপোরেশনের তৈরি এএন/টিপিওয়াই–২ রাডার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটারি ও সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।

পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা রাডার ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্লুমবার্গ আরও জানায়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও এমন ব্যবস্থা মোতায়েন আছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, প্রতিটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু এএন/টিপিওয়াই–২ রাডারটির দামই প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

সিএসআইএস–এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য কৌশলগত সম্পদ। এর একটি হারানো বড় ধরনের ধাক্কা।’

তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কিন সেনাবাহিনীর নয়টি থাড ব্যাটারি থাকার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র আটটি। ফলে অতিরিক্ত কোনো টিপিওয়াই–২ রাডার হাতে নেই।

প্রতিটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যাটারিতে প্রায় ৯০ জন সেনা সদস্য থাকে। এতে ট্রাকে বসানো ছয়টি লঞ্চার, মোট ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র (প্রতি লঞ্চারে ৮টি), একটি টিপিওয়াই–২ রাডার এবং একটি ফায়ার কন্ট্রোল ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে।

লকহিড মার্টিন করপোরেশনের তৈরি প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

প্যাসিফিক ফোরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম অ্যালবার্ক বলেন, ‘সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এই ধরনের সরঞ্জাম যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ইরান এর আগে কাতারে অবস্থিত একটি কৌশলগত মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের একটি বিবৃতিতে কিছু উপগ্রহ ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে কাতারের আল উদেদ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত অত্যাধুনিক রাডারটির ধ্বংসের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে! আইআরজিসি জানিয়েছে, কাতারে অবস্থিত রাডারটি একটি বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অংশ ছিল এবং এটি বুধবার স্থানীয় সময় ভোর পৌনে চারটায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬


কাতারের পর জর্ডানেও মার্কিন রাডার ধ্বংস করল ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস করেছে। এই রাডারের মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার, এবং এর ধ্বংসের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সক্ষমতা ভবিষ্যতে হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ব্লুমবার্গ সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, সিএনএনের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে সংঘাতের শুরুতেই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত আরটিএক্স করপোরেশনের তৈরি এএন/টিপিওয়াই–২ রাডার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটারি ও সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা রাডার ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ব্লুমবার্গ আরও জানায়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও এমন ব্যবস্থা মোতায়েন আছে।ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, প্রতিটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাম প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু এএন/টিপিওয়াই–২ রাডারটির দামই প্রায় ৩০ কোটি ডলার।সিএসআইএস–এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য কৌশলগত সম্পদ। এর একটি হারানো বড় ধরনের ধাক্কা।’তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কিন সেনাবাহিনীর নয়টি থাড ব্যাটারি থাকার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে রয়েছে মাত্র আটটি। ফলে অতিরিক্ত কোনো টিপিওয়াই–২ রাডার হাতে নেই।প্রতিটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যাটারিতে প্রায় ৯০ জন সেনা সদস্য থাকে। এতে ট্রাকে বসানো ছয়টি লঞ্চার, মোট ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র (প্রতি লঞ্চারে ৮টি), একটি টিপিওয়াই–২ রাডার এবং একটি ফায়ার কন্ট্রোল ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে।লকহিড মার্টিন করপোরেশনের তৈরি প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।প্যাসিফিক ফোরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম অ্যালবার্ক বলেন, ‘সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এই ধরনের সরঞ্জাম যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ইরান এর আগে কাতারে অবস্থিত একটি কৌশলগত মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের একটি বিবৃতিতে কিছু উপগ্রহ ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে কাতারের আল উদেদ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত অত্যাধুনিক রাডারটির ধ্বংসের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে! আইআরজিসি জানিয়েছে, কাতারে অবস্থিত রাডারটি একটি বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অংশ ছিল এবং এটি বুধবার স্থানীয় সময় ভোর পৌনে চারটায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত