নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথির আঘাতে আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ একটি তদন্ত গঠন করেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান এবং এএসআই আছির উদ্দিন একটি টিম নিয়ে নিহত আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। তবে ইমরান হোসেনকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে, আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।
নিহত আব্দুল হামিদের নাতি রিপন জানিয়েছেন, তারা এক ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। মধ্যরাতে পাঁচজন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং সেখানেই মারা যান।
নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া বলেন, তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।
গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম জানান, রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন, জানিয়ে যে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামে ধরতে অভিযানে গিয়েছিল। এ সময় অভিযানে একজন আসামিকে আটক করা হয়। পরে আরেকটি বাড়িতে অভিযান দিলে সেই বাড়ি থেকে কোনো আসামি পাওয়া যায়নি। পরে ওই বাড়ির অভিভাবকের কাছ থেকে পাশের একটি বাড়ি দেখে নেওয়ার জন্য হেল্প চায়। হেল্প চাইলে নামের গরমিল থাকায় পুলিশ ওখান থেকে আরেক জায়গায় অভিযান দেয়।’
‘সেখান থেকে আসার পথে স্থানীয়রা জানায়, লোকটি সহযোগিতা করতে বাইরে গিয়েছিল। পরে স্ট্রোক করে মারা যায়। পুলিশের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনা সঠিক নয়,’ দাবি করেন ওসি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। ওই পরিবারের কেউ এখনো আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। তারপরও বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে