রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬
The Dhaka News Bangla

অফিস টাইমের বাইরে কল করায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রভোস্টের ক্ষোভ

অফিস টাইমের বাইরে কল করায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রভোস্টের ক্ষোভ
হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা

“অফিস টাইম ছাড়া আমাকে ফোন করা যাবে না।” অসুস্থ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর হল প্রভোস্টের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ কথা বলেন, বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি ঘটেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়–এর দোলনচাঁপা হলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে সিনিয়র রুমমেটের বিরুদ্ধে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন ওই সিনিয়র রুমমেট। বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে কক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাঁকে দ্রুত ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা অক্সিজেন দেওয়ার পর তাঁর জ্ঞান ফেরে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার সময় হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘অফিস টাইমের বাইরে ও শুক্র-শনিবার’ ফোন না দিতে বলেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁদের দাবি, আবাসিক হলে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া উচিত ছিল।

পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ফারহানা সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলব না। আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাতরামি করা ছাড়া কিছুই না। যে শিক্ষার্থী সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেছে, তাকে আমি খুঁজে বের করব এবং প্রয়োজন হলে তার সিট বাতিল করব।”

তিনি আরও বলেন, “হলের হাউস টিউটরদের মাধ্যমে বিষয়গুলো জানানো উচিত ছিল। হাউস টিউটররা আমাকে না জানালে আমি কোনো উড়ো ফোন কলের ভিত্তিতে ত্রিশালে যেতে পারি না। শুক্রবার আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি না। সরাসরি আমাকে ফোন না করে আগে হাউস টিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল।”

উল্লেখ্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আইন - ২০০৬ অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আবাসিক হলে পারস্পরিক সহাবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

বিষয় : নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬


অফিস টাইমের বাইরে কল করায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রভোস্টের ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
“অফিস টাইম ছাড়া আমাকে ফোন করা যাবে না।” অসুস্থ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর হল প্রভোস্টের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ কথা বলেন, বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি ঘটেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়–এর দোলনচাঁপা হলে।বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে সিনিয়র রুমমেটের বিরুদ্ধে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন ওই সিনিয়র রুমমেট। বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে কক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাঁকে দ্রুত ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা অক্সিজেন দেওয়ার পর তাঁর জ্ঞান ফেরে।শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার সময় হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘অফিস টাইমের বাইরে ও শুক্র-শনিবার’ ফোন না দিতে বলেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁদের দাবি, আবাসিক হলে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া উচিত ছিল।পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ফারহানা সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলব না। আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাতরামি করা ছাড়া কিছুই না। যে শিক্ষার্থী সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেছে, তাকে আমি খুঁজে বের করব এবং প্রয়োজন হলে তার সিট বাতিল করব।”তিনি আরও বলেন, “হলের হাউস টিউটরদের মাধ্যমে বিষয়গুলো জানানো উচিত ছিল। হাউস টিউটররা আমাকে না জানালে আমি কোনো উড়ো ফোন কলের ভিত্তিতে ত্রিশালে যেতে পারি না। শুক্রবার আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকি না। সরাসরি আমাকে ফোন না করে আগে হাউস টিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল।”উল্লেখ্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আইন - ২০০৬ অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আবাসিক হলে পারস্পরিক সহাবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত