মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের প্রাসঙ্গিকতা

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের প্রাসঙ্গিকতা
ছবি- সংগৃহীত

বইপড়া আন্দোলনের রেশ কেবল একটি দিবসে সীমাবদ্ধ নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে গেল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। ১৯৫৪ সালের এই দিনে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। সেই দিনটিকে স্মরণ করে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও একটি জাতির মনন গঠনে গ্রন্থাগার বাতিঘরের মতো কাজ করে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে যৌক্তিক সমাজ সংস্কারে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব কতটুকু? অনলাইনের এই যুগেও কি ছাপানো বইয়ের ঘ্রাণ পাঠককে টানে? জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস এবং বইপড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনই কিছু অভিমত তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী তৈয়বা খানম।

গ্রন্থাগার সভ্যতার বাতিঘর

গ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয়, সভ্যতার জীবন প্রজীবনের বাতিঘর। গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মেধার ধারক ও বাহক হিসেবে তার জীবন্ত হৃদস্পন্দন। এটি অতীতের জ্ঞান সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের জ্ঞান অনুসন্ধানের অবাধ ক্ষেত্র, যা মননশীল জাতি গঠনে ‘জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে কাজ করে। একটি জাতির মনন ও উন্নতির পরিমাপক হলো তার সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। শুধু আমাদের কাছে যুগে যুগে গবেষণা, সৃজনশীলতা ও মানব চিন্তার প্রচুর আলো জড়িত না? গ্রন্থাগারই সেই আলোকে আগলে রেখেছে যত্নশীল হাতে। এখানে অতীত থেকে বর্তমানের সঙ্গে আলোচনা হয়, এবং ভবিষ্যতের দিকেও নেতিবাচক চিহ্ন দেয়। একটি জাতির জ্ঞানচর্চা, মনন, ও মূল্যবোধের মানচিত্র কতই ভালোভাবে আঁকা যায় তার গ্রন্থাগার দেখে। পাঠাভ্যাস মানুষকে মঙ্গলদায়ক করে তোলে, যুক্তি শক্তিশালী করে এবং মানবিক করে তোলে। গ্রন্থাগারই সেই সুযোগগুলো সবচেয়ে সহজে প্রদান করে। ডিজিটাল যুগেও গ্রন্থাগারের প্রয়োজন মিটেনি, বরং এর ভূমিকা আরও বিশাল হয়েছে। তথ্যের যে বিপদটি বর্তমানে দেখা দিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্যের সঠিক জ্ঞান নির্বাচনের নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হিসেবে আজও গ্রন্থাগারের কার্যকরী ভূমিকা আছে। তাই এটা বলা যায়, সভ্যতার পথ চলার সময় গ্রন্থাগার সর্বদা আলোর দিশারি।

মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন, শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া।


প্রতিটি গ্রন্থাগার জ্ঞানের ভান্ডার

যেখানে আমরা সকল জ্ঞান একসাথে পাই সেটি হলো গ্রন্থাগার। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘লাইব্রেরি’ নামে সকলের কাছে পরিচিত। একটি গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞানের ভান্ডার। যেখানে পুঞ্জীভূত থাকে নানান বিষয়। যেমন: সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, শিশুতোষ, গল্প, নাটক, কবিতা, ছড়াসহ বিভিন্ন বিষয়াদি। একটি গ্রন্থগার থেকে কোনো ব্যক্তি যা শিখতে পারে সে পুঁথিগত বই পড়ে তা শিখতে পারে না। পাঠ্যবই আমাদের পেশাগত জীবনের উন্নতি ঘটালেও জীবনের আসল উন্নত ঘটাতে পারে না। যার জন্য প্রয়োজন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ভিন্ন বই পড়া। আর সেটা পাওয়া যায় একমাত্র গ্রন্থাগারে। এক স্থানে সকল জ্ঞানের সমাহার হলো গ্রন্থাগার। কিন্তু বর্তমানে দেশে গ্রন্থাগারের সংকট প্রচুর। প্রতি জেলায় খুঁজলে একটি কিংবা দুইটি গ্রন্থাগার পাওয়া যাবে। কোনো কোনো এলাকায় গ্রন্থগার নেই বললেই চলে। আর থাকলেও বইয়ের সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থা। “বিশ্ব গ্রন্থগার দিবসে” প্রশাসনের কাছে বিশেষ আবেদন যে, প্রতিটি জেলায় কয়েকটি করে গ্রন্থাগার স্থাপন। কেননা শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের কাছে জ্ঞানের বিশালতা ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ মাধ্যমই হলো গ্রন্থাগার।

খাদিজা আক্তার সায়মা, শিক্ষার্থী, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।


জ্ঞান চর্চায় স্মার্ট গ্রন্থাগারের ভূমিকা

গ্রন্থাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদণ্ড। শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানুষের সব জ্ঞান জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের অন্তরালে। অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই, আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার। ৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জ্ঞানচর্চার প্রাচীন অথচ চিরনবীন এক প্রতিষ্ঠান—গ্রন্থাগারের কথা। সময় বদলেছে, বদলেছে পাঠের ধরনও। আজ কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্টে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের গ্রন্থাগার। এই রূপান্তরই গড়ে তুলতে পারে ‘স্মার্ট গ্রন্থাগার’, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। স্মার্ট গ্রন্থাগার মানে শুধু আধুনিক অবকাঠামো নয়; এটি জ্ঞানপ্রাপ্তির সহজ ও দ্রুত মাধ্যম। অনলাইন ক্যাটালগ, ই-বুক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে সীমাহীন জ্ঞান পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। যান্ত্রিক জীবনে মানসিক প্রশান্তির জন্য গ্রন্থাগার অপরিহার্য। স্মার্ট গ্রন্থাগার হতে পারে পাঠের সেই সহজলভ্যতা। এটি গড়তে পারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চিন্তা, উদ্ভাবন ও প্রগতির শক্তিশালী কেন্দ্র। পরিশেষে প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, ‘লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল।’ যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।

তানজিনা আক্তার চৈতি, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।

বিষয় : তারুণ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যাল

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের প্রাসঙ্গিকতা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
বইপড়া আন্দোলনের রেশ কেবল একটি দিবসে সীমাবদ্ধ নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে গেল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। ১৯৫৪ সালের এই দিনে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। সেই দিনটিকে স্মরণ করে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও একটি জাতির মনন গঠনে গ্রন্থাগার বাতিঘরের মতো কাজ করে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে যৌক্তিক সমাজ সংস্কারে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব কতটুকু? অনলাইনের এই যুগেও কি ছাপানো বইয়ের ঘ্রাণ পাঠককে টানে? জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস এবং বইপড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনই কিছু অভিমত তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী তৈয়বা খানম।গ্রন্থাগার সভ্যতার বাতিঘরগ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয়, সভ্যতার জীবন প্রজীবনের বাতিঘর। গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মেধার ধারক ও বাহক হিসেবে তার জীবন্ত হৃদস্পন্দন। এটি অতীতের জ্ঞান সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের জ্ঞান অনুসন্ধানের অবাধ ক্ষেত্র, যা মননশীল জাতি গঠনে ‘জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে কাজ করে। একটি জাতির মনন ও উন্নতির পরিমাপক হলো তার সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। শুধু আমাদের কাছে যুগে যুগে গবেষণা, সৃজনশীলতা ও মানব চিন্তার প্রচুর আলো জড়িত না? গ্রন্থাগারই সেই আলোকে আগলে রেখেছে যত্নশীল হাতে। এখানে অতীত থেকে বর্তমানের সঙ্গে আলোচনা হয়, এবং ভবিষ্যতের দিকেও নেতিবাচক চিহ্ন দেয়। একটি জাতির জ্ঞানচর্চা, মনন, ও মূল্যবোধের মানচিত্র কতই ভালোভাবে আঁকা যায় তার গ্রন্থাগার দেখে। পাঠাভ্যাস মানুষকে মঙ্গলদায়ক করে তোলে, যুক্তি শক্তিশালী করে এবং মানবিক করে তোলে। গ্রন্থাগারই সেই সুযোগগুলো সবচেয়ে সহজে প্রদান করে। ডিজিটাল যুগেও গ্রন্থাগারের প্রয়োজন মিটেনি, বরং এর ভূমিকা আরও বিশাল হয়েছে। তথ্যের যে বিপদটি বর্তমানে দেখা দিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্যের সঠিক জ্ঞান নির্বাচনের নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হিসেবে আজও গ্রন্থাগারের কার্যকরী ভূমিকা আছে। তাই এটা বলা যায়, সভ্যতার পথ চলার সময় গ্রন্থাগার সর্বদা আলোর দিশারি।মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন, শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া।প্রতিটি গ্রন্থাগার জ্ঞানের ভান্ডারযেখানে আমরা সকল জ্ঞান একসাথে পাই সেটি হলো গ্রন্থাগার। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘লাইব্রেরি’ নামে সকলের কাছে পরিচিত। একটি গ্রন্থাগার একটি জাতির জ্ঞানের ভান্ডার। যেখানে পুঞ্জীভূত থাকে নানান বিষয়। যেমন: সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, শিশুতোষ, গল্প, নাটক, কবিতা, ছড়াসহ বিভিন্ন বিষয়াদি। একটি গ্রন্থগার থেকে কোনো ব্যক্তি যা শিখতে পারে সে পুঁথিগত বই পড়ে তা শিখতে পারে না। পাঠ্যবই আমাদের পেশাগত জীবনের উন্নতি ঘটালেও জীবনের আসল উন্নত ঘটাতে পারে না। যার জন্য প্রয়োজন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ভিন্ন বই পড়া। আর সেটা পাওয়া যায় একমাত্র গ্রন্থাগারে। এক স্থানে সকল জ্ঞানের সমাহার হলো গ্রন্থাগার। কিন্তু বর্তমানে দেশে গ্রন্থাগারের সংকট প্রচুর। প্রতি জেলায় খুঁজলে একটি কিংবা দুইটি গ্রন্থাগার পাওয়া যাবে। কোনো কোনো এলাকায় গ্রন্থগার নেই বললেই চলে। আর থাকলেও বইয়ের সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থা। “বিশ্ব গ্রন্থগার দিবসে” প্রশাসনের কাছে বিশেষ আবেদন যে, প্রতিটি জেলায় কয়েকটি করে গ্রন্থাগার স্থাপন। কেননা শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের কাছে জ্ঞানের বিশালতা ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ মাধ্যমই হলো গ্রন্থাগার।খাদিজা আক্তার সায়মা, শিক্ষার্থী, সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।জ্ঞান চর্চায় স্মার্ট গ্রন্থাগারের ভূমিকাগ্রন্থাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদণ্ড। শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানুষের সব জ্ঞান জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের অন্তরালে। অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই, আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার। ৫ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জ্ঞানচর্চার প্রাচীন অথচ চিরনবীন এক প্রতিষ্ঠান—গ্রন্থাগারের কথা। সময় বদলেছে, বদলেছে পাঠের ধরনও। আজ কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্টে সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের গ্রন্থাগার। এই রূপান্তরই গড়ে তুলতে পারে ‘স্মার্ট গ্রন্থাগার’, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। স্মার্ট গ্রন্থাগার মানে শুধু আধুনিক অবকাঠামো নয়; এটি জ্ঞানপ্রাপ্তির সহজ ও দ্রুত মাধ্যম। অনলাইন ক্যাটালগ, ই-বুক, ডিজিটাল আর্কাইভ ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে সীমাহীন জ্ঞান পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। যান্ত্রিক জীবনে মানসিক প্রশান্তির জন্য গ্রন্থাগার অপরিহার্য। স্মার্ট গ্রন্থাগার হতে পারে পাঠের সেই সহজলভ্যতা। এটি গড়তে পারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চিন্তা, উদ্ভাবন ও প্রগতির শক্তিশালী কেন্দ্র। পরিশেষে প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, ‘লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল।’ যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পায়।তানজিনা আক্তার চৈতি, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত