সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইরামের গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগীতা ও ‘মননসভা’র পাঠচক্র

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইরামের গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগীতা ও ‘মননসভা’র পাঠচক্র
ছবি: নওসাদ আল সাইম।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালায়েন্স ফর ইনোভেশন, রাইটস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মোবিলাইজেশনের (আইরাম) ‘গ্রন্থপাঠ কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় ‘মননসভা’র পাঠচক্র ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

তরুণ প্রজন্মকে বইপাঠে উৎসাহিত করা, তাদের জ্ঞান, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও প্রকাশক্ষমতা বাড়ানো এবং অফলাইন ও অনলাইনে বই পড়া আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার।

অনুষ্ঠানে অতিথি ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বাকীবিল্লাহ, নাট্যকলা বিভাগের প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর আরিফ হাসান এবং কলাম লেখক জেনাস ভৌমিক।

বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক মো. বাকীবিল্লাহ বলেন, ‘বই মানুষের ভেতরের সত্তাকে জাগিয়ে তোলে। পাঠচক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তা, ভাষা ও যুক্তিবোধের বিকাশ ঘটে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার কার্যকর পরিসর তৈরি করে।’ তিনি তরুণদের পাঠাভ্যাসকে জীবনের স্থায়ী সম্পদ হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে বইপাঠের গুরুত্ব তুলে ধরেন আরিফ হাসান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে মনোযোগ ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। পাঠচক্র সেই মনোযোগ ফিরিয়ে আনে এবং ব্যক্তিত্বে শৃঙ্খলা তৈরি করে। নিয়মিত বই পড়লে নিজের মত প্রকাশে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।’ 

কলাম লেখক জেনাস ভৌমিক পাঠচক্রকে সমাজ নির্মাণের কারখানা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইরামের মতো সংগঠন যখন তরুণদের হাতে বই তুলে দেয়, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইরামের পক্ষ থেকে পাঠচক্রের ১০ সদস্যকে ১০টি বই দেওয়া হয়। বইগুলোর ওপর তাঁরা লিখিত পর্যালোচনা জমা দেন এবং গতকাল আলোচনায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ (বই: যদ্যপি আমার গুরু), হালিমা তুস সাদিয়া (সুখ), নবনীতা দাস রাখি (দেশে বিদেশে), তাহমিনা মিম (ছোটদের রাজনীতি ও অর্থনীতি), আব্দুল্লাহ আল সিফাত (বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর), তাসনিম হক রাফি (বাংলাদেশ রক্তের ঋণ), ইস্রাফিল আকন্দ (ক্রাচের কর্ণেল), মো. আলী আহসান তূর্য (আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর), অনিরুদ্ধ সাজ্জাদ (রাজনীতি কোষ) এবং ফারজানা ইয়াসমিন শ্রাবণী (ওয়ার অ্যান্ড পিস)।

প্রকল্প পরিচালক মো. মুনতাসির রহমান জানান, গ্রন্থপাঠ কর্মসূচি প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ও উপস্থাপন দক্ষতা বৃদ্ধিসহ পাঠ্যবস্তুর বোধগম্যতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা মূল্যায়ন দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেরা পাঠক ও আলোচকদের উৎসাহ প্রদানের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। এছাড়া পাঠচক্রভিত্তিক সংগঠন ও আইরাম এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিষয় : নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইরামের গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগীতা ও ‘মননসভা’র পাঠচক্র

প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালায়েন্স ফর ইনোভেশন, রাইটস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মোবিলাইজেশনের (আইরাম) ‘গ্রন্থপাঠ কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় ‘মননসভা’র পাঠচক্র ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।তরুণ প্রজন্মকে বইপাঠে উৎসাহিত করা, তাদের জ্ঞান, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও প্রকাশক্ষমতা বাড়ানো এবং অফলাইন ও অনলাইনে বই পড়া আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার।অনুষ্ঠানে অতিথি ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বাকীবিল্লাহ, নাট্যকলা বিভাগের প্রিন্সিপাল ডেমোনস্ট্রেটর আরিফ হাসান এবং কলাম লেখক জেনাস ভৌমিক।বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক মো. বাকীবিল্লাহ বলেন, ‘বই মানুষের ভেতরের সত্তাকে জাগিয়ে তোলে। পাঠচক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তা, ভাষা ও যুক্তিবোধের বিকাশ ঘটে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার কার্যকর পরিসর তৈরি করে।’ তিনি তরুণদের পাঠাভ্যাসকে জীবনের স্থায়ী সম্পদ হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান।শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে বইপাঠের গুরুত্ব তুলে ধরেন আরিফ হাসান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে মনোযোগ ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। পাঠচক্র সেই মনোযোগ ফিরিয়ে আনে এবং ব্যক্তিত্বে শৃঙ্খলা তৈরি করে। নিয়মিত বই পড়লে নিজের মত প্রকাশে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।’ কলাম লেখক জেনাস ভৌমিক পাঠচক্রকে সমাজ নির্মাণের কারখানা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইরামের মতো সংগঠন যখন তরুণদের হাতে বই তুলে দেয়, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ।কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইরামের পক্ষ থেকে পাঠচক্রের ১০ সদস্যকে ১০টি বই দেওয়া হয়। বইগুলোর ওপর তাঁরা লিখিত পর্যালোচনা জমা দেন এবং গতকাল আলোচনায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ (বই: যদ্যপি আমার গুরু), হালিমা তুস সাদিয়া (সুখ), নবনীতা দাস রাখি (দেশে বিদেশে), তাহমিনা মিম (ছোটদের রাজনীতি ও অর্থনীতি), আব্দুল্লাহ আল সিফাত (বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর), তাসনিম হক রাফি (বাংলাদেশ রক্তের ঋণ), ইস্রাফিল আকন্দ (ক্রাচের কর্ণেল), মো. আলী আহসান তূর্য (আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর), অনিরুদ্ধ সাজ্জাদ (রাজনীতি কোষ) এবং ফারজানা ইয়াসমিন শ্রাবণী (ওয়ার অ্যান্ড পিস)।প্রকল্প পরিচালক মো. মুনতাসির রহমান জানান, গ্রন্থপাঠ কর্মসূচি প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ও উপস্থাপন দক্ষতা বৃদ্ধিসহ পাঠ্যবস্তুর বোধগম্যতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা মূল্যায়ন দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেরা পাঠক ও আলোচকদের উৎসাহ প্রদানের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। এছাড়া পাঠচক্রভিত্তিক সংগঠন ও আইরাম এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত