সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের বর্ণাঢ্য র‍্যালি
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি করেছে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে র‍্যালিটি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়।

সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জনস্বাস্থ্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধ গবেষক ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে র‍্যালির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনসহ চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্কাউট দলের সদস্যরা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ। 

র‍্যালিতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ক্যান্সারকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; বরং ক্যান্সার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনই পারে জীবন বাঁচাতে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, তামাক ও মাদক পরিহার, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ সমাজ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

ওর্য়াল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট, জনস্বাস্থ্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধ গবেষক ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং বাংলাদেশেও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কেমিক্যাল যুক্ত খাবার, অতিরিক্ত রাসায়নিক খাবার, অতিরিক্ত ফাস্টফুড নির্ভরতা, পরিবেশ দূষণ, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাব ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ড. হুমায়ুন কবির আরও বলেন, দেশের বেশিরভাগ ক্যান্সার রোগী দেরিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, যার ফলে চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার, জরায়ু মুখ ক্যান্সার, ফুসফুস ও মুখগহ্বর ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। তিনি বলেন, আমরা যদি এখনই সচেতন না হই এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি পরিবারে অন্তত একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব বিষয়কে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন ড. হুমায়ুন কবির। 

র‍্যালিতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা বলেন, ক্যান্সার বর্তমানে দেশের একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতা কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে ক্যান্সার গবেষণা, চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর জোর দাবি জানান তারা।

র‍্যালিতে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে পথচারীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালি করেছে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে র‍্যালিটি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়।সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জনস্বাস্থ্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধ গবেষক ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে র‍্যালির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনসহ চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্কাউট দলের সদস্যরা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ। র‍্যালিতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ক্যান্সারকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; বরং ক্যান্সার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনই পারে জীবন বাঁচাতে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, তামাক ও মাদক পরিহার, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ সমাজ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।ওর্য়াল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট, জনস্বাস্থ্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধ গবেষক ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং বাংলাদেশেও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কেমিক্যাল যুক্ত খাবার, অতিরিক্ত রাসায়নিক খাবার, অতিরিক্ত ফাস্টফুড নির্ভরতা, পরিবেশ দূষণ, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাব ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।ড. হুমায়ুন কবির আরও বলেন, দেশের বেশিরভাগ ক্যান্সার রোগী দেরিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, যার ফলে চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ সম্ভব। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার, জরায়ু মুখ ক্যান্সার, ফুসফুস ও মুখগহ্বর ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। তিনি বলেন, আমরা যদি এখনই সচেতন না হই এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি পরিবারে অন্তত একজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে।আগামী জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব বিষয়কে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন ড. হুমায়ুন কবির। র‍্যালিতে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা বলেন, ক্যান্সার বর্তমানে দেশের একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতা কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে ক্যান্সার গবেষণা, চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর জোর দাবি জানান তারা।র‍্যালিতে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে পথচারীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত