বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চাচাকে হত্যায় ভাতিজার মৃত্যুদন্ড

চাচাকে হত্যায় ভাতিজার মৃত্যুদন্ড
চাঁদপুর আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সরোয়ার আলম

কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাঘাত করে বাড়ির সম্পর্কে চাচা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিককে (৩৭) হত্যার দায়ে ভাতিজা মো. সারোয়ার আলমকে (৩২) মৃত্যুদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই আসামীকে অপর ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন।

হত্যার শিকার ছিদ্দিুকুর রহমান কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলী বাড়ির মৃত হাজী আমির হোসেনের ছেলে। পেশায় ছিলেন বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার এবং ঘটনার সময় তার তিন বছর বয়সী কন্যা সন্তান ছিলো।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী মো. সারোয়ার আলম একই বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনিও পেশায় বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী।

মামলার এজহার ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানাগেছে, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রাম লোকজন দেখতে পায়। পুলিশকে জানালে পুলিশ লোকজনের উপস্থিতিতে ওই ড্রাম খুলে ভিতরে ছিদ্দিকের মৃতদেহ দেখেন। মরদেহ উদ্ধার ও ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ। এই ঘটনায় শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আউয়াল বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই ঘটনার পূর্বে ছিদ্দিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা দক্ষিণ থানায় জিডি হয়। ওই জিডির সূত্র ধরে তাকে পরিবারের লোকজন মরদেহ সনাক্ত করে।

মামলার পরে ঘটনাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান। তিনি ঘটনাটি তদন্তকালে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে আসামী সারোয়ার আলমকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে। ঘটনাটি তদন্ত শেষে তিনি ২০২১ সালের ২ অক্টোবর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাড়ির চলাচলের রাস্তা না দেয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামী সারোয়ার। সেই পরিকল্পনা ও ক্রাইম পেট্টোল দেখে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর নামক স্থানের হাজারী পাম্পের দক্ষিণ পাশে ইতালী প্রবাসী মো. মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ফোন করে ডেকে নিয়ে তাকে প্রথমে আটকে রাখে এবং পরে রাতে মারধর ও শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। সেখান থেকে পরদিন ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে এবং ড্রামে মরদেহ ডুকিয়ে চাঁদপুরের রাঢ়া রাজাপুরা নামক স্থানে ফেলে অটোরিকশায় কুমিল্লায় চলে যায়। মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম এবং আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাওন।

পিপি কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি পাঁচবছরের অধিক সময় চলাকালে আদালত ২০জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামী তার অপরাধ স্বীকার করায় তার উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। এই মামলায় অপর আসামী সারোয়ার এর আপন ভাই নুরে আলমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

বিষয় : আদালত চাঁদপুর

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


চাচাকে হত্যায় ভাতিজার মৃত্যুদন্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাঘাত করে বাড়ির সম্পর্কে চাচা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিককে (৩৭) হত্যার দায়ে ভাতিজা মো. সারোয়ার আলমকে (৩২) মৃত্যুদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই আসামীকে অপর ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন।হত্যার শিকার ছিদ্দিুকুর রহমান কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলী বাড়ির মৃত হাজী আমির হোসেনের ছেলে। পেশায় ছিলেন বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার এবং ঘটনার সময় তার তিন বছর বয়সী কন্যা সন্তান ছিলো।মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী মো. সারোয়ার আলম একই বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনিও পেশায় বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী।মামলার এজহার ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানাগেছে, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রাম লোকজন দেখতে পায়। পুলিশকে জানালে পুলিশ লোকজনের উপস্থিতিতে ওই ড্রাম খুলে ভিতরে ছিদ্দিকের মৃতদেহ দেখেন। মরদেহ উদ্ধার ও ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ। এই ঘটনায় শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আউয়াল বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই ঘটনার পূর্বে ছিদ্দিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা দক্ষিণ থানায় জিডি হয়। ওই জিডির সূত্র ধরে তাকে পরিবারের লোকজন মরদেহ সনাক্ত করে।মামলার পরে ঘটনাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান। তিনি ঘটনাটি তদন্তকালে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে আসামী সারোয়ার আলমকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে। ঘটনাটি তদন্ত শেষে তিনি ২০২১ সালের ২ অক্টোবর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাড়ির চলাচলের রাস্তা না দেয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামী সারোয়ার। সেই পরিকল্পনা ও ক্রাইম পেট্টোল দেখে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর নামক স্থানের হাজারী পাম্পের দক্ষিণ পাশে ইতালী প্রবাসী মো. মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ফোন করে ডেকে নিয়ে তাকে প্রথমে আটকে রাখে এবং পরে রাতে মারধর ও শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। সেখান থেকে পরদিন ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে এবং ড্রামে মরদেহ ডুকিয়ে চাঁদপুরের রাঢ়া রাজাপুরা নামক স্থানে ফেলে অটোরিকশায় কুমিল্লায় চলে যায়। মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম এবং আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাওন।পিপি কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি পাঁচবছরের অধিক সময় চলাকালে আদালত ২০জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামী তার অপরাধ স্বীকার করায় তার উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। এই মামলায় অপর আসামী সারোয়ার এর আপন ভাই নুরে আলমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত