সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
The Dhaka News Bangla

‘ভোটে যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে’

‘ভোটে যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে’

গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। কখনো রাতের ভোট, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীহীন একক নির্বাচন, আবার কখনো ডামি ও ভুয়া ভোটের মাধ্যমে এই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেওয়া যাবে। কাউকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হবে না। আর যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে। আমরা শেখ হাসিনা হতে চাই না।’

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণকে ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা হয়েছে। জনগণের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের সম্পদ অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ফলে দেশে পুনরায় ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’

এবারের নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বড় ধরনের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করলেও জনগণের মতামত নেওয়া এখনো বাকি।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের মতামত জানার জন্যই এই গণভোটের আয়োজন। এখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটি ভোটের সুযোগ থাকবে। যারা সংস্কারের পক্ষে, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আর যারা শেখ হাসিনার আমলের মতো বাংলাদেশ পরিচালিত হোক চান, তারা ‘না’ ভোট দেবেন।’

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অতীতে আয়নাঘর, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও গায়েবি মামলার মতো যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা পরিবর্তনের জন্যই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এমনকি ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সভায় বগুড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : আসিফ নজরুল

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬


‘ভোটে যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। কখনো রাতের ভোট, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীহীন একক নির্বাচন, আবার কখনো ডামি ও ভুয়া ভোটের মাধ্যমে এই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেওয়া যাবে। কাউকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হবে না। আর যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে। আমরা শেখ হাসিনা হতে চাই না।’সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণকে ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা হয়েছে। জনগণের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের সম্পদ অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে।’জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ফলে দেশে পুনরায় ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’এবারের নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বড় ধরনের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করলেও জনগণের মতামত নেওয়া এখনো বাকি।’তিনি বলেন, ‘জনগণের মতামত জানার জন্যই এই গণভোটের আয়োজন। এখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ দুটি ভোটের সুযোগ থাকবে। যারা সংস্কারের পক্ষে, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আর যারা শেখ হাসিনার আমলের মতো বাংলাদেশ পরিচালিত হোক চান, তারা ‘না’ ভোট দেবেন।’বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অতীতে আয়নাঘর, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও গায়েবি মামলার মতো যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা পরিবর্তনের জন্যই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’এমনকি ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।সভায় বগুড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত