চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও নানা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। রোববার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, আবাসন সংকট, যাতায়াত সমস্যা, গুপ্ত হামলা এবং নারী শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন ছাত্রদল নেতারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এসব অনিয়ম নিয়ে প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।
আলোচনার শুরুতে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কার্যক্রম ব্যাখ্যা করেন। এরপর ছাত্রদল নেতারা একে একে অভিযোগ তুলে ধরে পাল্টা প্রশ্ন করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন,“আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় স্টেকহোল্ডার। আমরা নানা রকম সুযোগ সুবিধা দিতে পারি নাই। তাদের দাবির মধ্যে অনেক যৌক্তিক দাবি আছে। এগুলোর বিক্ষিপ্তভাবে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। আপনারা সকল দাবি লিখে নিয়ে আসুন। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করবো।”
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান সরাসরি উপাচার্যের কাছে জানতে চান, অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগগুলো বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া চালু করা হবে কি না।
প্রথমে উপাচার্য এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে উপ-উপাচার্যকে কথা বলতে বলেন। পরে ছাত্রদল নেতারা উপাচার্যের কাছ থেকেই স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন,
“নিয়োগের ব্যাপারে আমার জানামতে কোন ব্যত্যয় হয়নি। যা কিছু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুয়ায়ী হয়েছে।”
এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে স্লোগান দিতে দিতে মিছিলসহ সভাকক্ষ ত্যাগ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন,“আমরা আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ অগাস্ট পরবর্তী যে অস্বচ্ছ নিয়োগ ও অনিয়ম হয়েছে, সেটি নিয়ে উপাচার্যের সাথে বসেছিলাম। ওনাকে প্রশ্ন করলে উনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। উনি স্বজনপ্রীতির কথা বলে যাচ্ছিলেন।
আমরা সর্বশেষ প্রশ্ন করেছিলাম, স্যার নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে আপনি স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া করবেন কি না? সেটির উত্তর তিনি দিতে পারেননি। যার কারণে আমরা বৈঠক বর্জন করে চলে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন,“আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে আরও কঠোর পদক্ষেপে যাবো।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন,“নিয়োগের বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমরা ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইতে গিয়েছিলাম।
আমাদের আবাসন, যাতায়াত ব্যবস্থা, মবের শিকার শিক্ষার্থী এবং নারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।”
তিনি আরও বলেন,“আজকে উপাচার্য অন্যায় ও অনিয়মের বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। আমাদের আহ্বান ছিল—উনি যদি জবাব দিতে না পারেন, তাহলে নৈতিকভাবে পদত্যাগ করা উচিত।”
উল্লেখ্য, নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে ছয় ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। কর্মসূচি শেষে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। রোববারের বৈঠকেও কোনো আশ্বাস না মেলায় আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে