লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার কামারহাট এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারের একটি বাড়ির বারান্দায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারহাট এলাকার বাসিন্দা বিধান চক্রবর্তীর বাড়ির বারান্দায় গতকাল রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়।
এর তিন দিন আগেও একই থানার দেওপাড়া কামার বাড়ি এলাকায় আরও একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরপর এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়। কখনো হত্যাকাণ্ড, কখনো বাড়িঘরে আগুন, আবার কখনো ধর্ষণ বা অপহরণের মতো ঘটনাগুলো পালাক্রমে ঘটতে দেখা যায়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় তারা সহজেই সহিংসতার শিকার হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
তাদের আরও অভিযোগ, ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত উভয় ক্ষেত্রেই অনেক সময় তারা ঝুঁকির মুখে পড়ে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অনেক নেতা প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু শব্দের অস্তিত্ব অস্বীকার করলেও বাস্তবে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা বা শক্ত অবস্থান দেখা যায় না।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামাঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার টিন ও কাঠের ঘর ভেঙে ইটের পাকা ঘর নির্মাণ করছে, যা দেশটিকে নিজেদের নিরাপদ আবাসভূমি হিসেবে দেখার আশারই প্রতিফলন। তবে বারবার সহিংসতায় সেই মনোবল ভেঙে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মনোবল ভেঙে দিলে কারা লাভবান হচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিকারক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
বিষয় : লক্ষ্মীপুর অগ্নিসংযোগ

শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে