বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

চবিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

চবিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান
চবিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ অভিযান শুরু করে।

দুদক কর্মকর্তারা জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কার্যালয় থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংগ্রহ করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।

এদিকে নিয়োগের নথিপত্র তালাবদ্ধ রেখে চীনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য তাই সবগুলো তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বলেও জানান দুদক কর্মকর্তারা। 

একই সময়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তানিয়া মাহি বলেন, “২৪-এর অভ্যুত্থান, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় আমরা মেনে নেব না। গত দেড় বছরে যে নিয়োগগুলো হয়েছে, সেগুলো নিয়ে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এসব নিয়োগের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুক। অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রতিটি নিয়োগের প্রক্রিয়া, নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিচয় ও যোগ্যতা শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের বিরোধিতা করছি না, বরং জবাবদিহিতামূলক একটি ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করছি। দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই আন্দোলন আরও জোরালো হবে।”

অভিযান শেষে দুদক জানায়, প্রাথমিক যাচাইয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী নিয়োগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ১৫০ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অভিযানের সময় একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিয়োগসংক্রান্ত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী জনবল প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার বিদেশে অবস্থান করায় কিছু নথি তখন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি দেশে ফেরার পর সেগুলো সংগ্রহ করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানায় দুদক।

এর আগে গত ১২ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে শতাধিক জনকে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা খান প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের ভাই মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম। একইভাবে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হকের পুত্র ওই বিভাগেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

অভিযান শেষে বক্তব্যে দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সায়েদুল আলম বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত নিয়োগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সব নিয়োগই শূন্য পদে এবং নিয়ম অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ ও আবাসিক হলে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। সে কারণে পূর্বে অস্থায়ীভাবে কর্মরতদের একটি বড় অংশকে নিয়মিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিয়োগ কিংবা স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে প্রশাসন।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। তিনি বলেন, তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মচারী আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ফলে এগুলোকে পুরোপুরি নতুন নিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেকেই পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকেই কর্মরত ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এসব নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লেনদেন বা অসদুপায়ের অভিযোগ শোনা যায়, আবার কাউকে আগের ফ্যাসিবাদী শাসনের ঘনিষ্ঠ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। তবে মানবিক দিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিয়োগ নিয়মিত করেছে।

শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ সংখ্যা ১ হাজার ২৫০টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০ জন। সে হিসেবে আরও অন্তত ২০০ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। তাই অতিরিক্ত নিয়োগের প্রশ্ন ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, যার মধ্যে দুজন এখনো যোগদান করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম। আমরা আউটকাম বেইজড এডুকেশন চালু করছি, যেখানে বর্তমান সংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষক প্রয়োজন হবে। নতুন হল চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাহিদাও বেড়েছে। অনেক বিভাগে পর্যাপ্ত স্টাফ নেই। এসব বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরোপুরি ন্যায্য ছিল বলেই আমি মনে করি। সত্য একদিন প্রকাশ পাবে।”

প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা না মিললেও, সংগৃহীত নথিপত্র যাচাই শেষে দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহল।



বিষয় : দুদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনিয়ম

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬


চবিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ অভিযান শুরু করে।দুদক কর্মকর্তারা জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কার্যালয় থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংগ্রহ করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।এদিকে নিয়োগের নথিপত্র তালাবদ্ধ রেখে চীনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য তাই সবগুলো তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বলেও জানান দুদক কর্মকর্তারা। একই সময়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তানিয়া মাহি বলেন, “২৪-এর অভ্যুত্থান, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় আমরা মেনে নেব না। গত দেড় বছরে যে নিয়োগগুলো হয়েছে, সেগুলো নিয়ে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এসব নিয়োগের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুক। অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রতিটি নিয়োগের প্রক্রিয়া, নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিচয় ও যোগ্যতা শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের বিরোধিতা করছি না, বরং জবাবদিহিতামূলক একটি ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করছি। দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই আন্দোলন আরও জোরালো হবে।”অভিযান শেষে দুদক জানায়, প্রাথমিক যাচাইয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী নিয়োগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ১৫০ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অভিযানের সময় একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিয়োগসংক্রান্ত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী জনবল প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার বিদেশে অবস্থান করায় কিছু নথি তখন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি দেশে ফেরার পর সেগুলো সংগ্রহ করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানায় দুদক।এর আগে গত ১২ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে শতাধিক জনকে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা খান প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের ভাই মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম। একইভাবে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হকের পুত্র ওই বিভাগেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।অভিযান শেষে বক্তব্যে দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সায়েদুল আলম বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত নিয়োগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সব নিয়োগই শূন্য পদে এবং নিয়ম অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ ও আবাসিক হলে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। সে কারণে পূর্বে অস্থায়ীভাবে কর্মরতদের একটি বড় অংশকে নিয়মিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিয়োগ কিংবা স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে প্রশাসন।ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। তিনি বলেন, তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মচারী আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ফলে এগুলোকে পুরোপুরি নতুন নিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেকেই পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকেই কর্মরত ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, এসব নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লেনদেন বা অসদুপায়ের অভিযোগ শোনা যায়, আবার কাউকে আগের ফ্যাসিবাদী শাসনের ঘনিষ্ঠ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। তবে মানবিক দিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিয়োগ নিয়মিত করেছে।শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ সংখ্যা ১ হাজার ২৫০টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০ জন। সে হিসেবে আরও অন্তত ২০০ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। তাই অতিরিক্ত নিয়োগের প্রশ্ন ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, যার মধ্যে দুজন এখনো যোগদান করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম। আমরা আউটকাম বেইজড এডুকেশন চালু করছি, যেখানে বর্তমান সংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষক প্রয়োজন হবে। নতুন হল চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাহিদাও বেড়েছে। অনেক বিভাগে পর্যাপ্ত স্টাফ নেই। এসব বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরোপুরি ন্যায্য ছিল বলেই আমি মনে করি। সত্য একদিন প্রকাশ পাবে।”প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা না মিললেও, সংগৃহীত নথিপত্র যাচাই শেষে দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহল।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত