রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনন্দ কুমার ও তাঁর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মহোৎসবের অভিযোগ উঠেছে।
নামজারি (খারিজ), খাজনার চেক ও মিস কেসের সমাধান পেতে সাধারণ মানুষকে হাজার হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে কপালে জুটছে হয়রানি আর দুর্ব্যবহার।
এর প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগের অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনন্দ কুমার প্রতিটি নামজারি কেস জমা দিতে গেলে শুরুতেই ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নেন। খাজনার চেক অনুমোদন করতে গেলেও বিক্রম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ১,০০০ টাকা করে দাবি করা হয়। নামজারি বা মিস কেসের জটিলতা ভেদে এই ঘুষের অঙ্ক ৫০,০০০ থেকে শুরু করে ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
অভিযোগ রয়েছে, অফিস সহায়ক মাজেদুল নিজেই টাঙ্গন, ইউসুফপুর ও ডাকরা মৌজায় এই টাকার লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন।
সম্প্রতি অনুপমপুর গ্রামের একটি মিস কেসের জন্য মাজেদুল ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাজেদুল নামের এক ব্যক্তি খারিজে ভুল ধরার ভয় দেখিয়ে প্রতি ফাইল থেকে ১,০০০ টাকা করে আদায় করছেন। টাকা না দিলে ফাইল বাতিল করার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিটি খারিজে ডি.সি.আর বাবদ ১,৬০০ টাকা এবং হাজিরার জন্য ৭০০ টাকা করে পিয়নের মাধ্যমে আদায় করা হয়। ভূমি কর্মকর্তা আনন্দ কুমার নিজেও প্রতিটি খারিজে ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।
চঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে যে, আনন্দ কুমার টাকার বিনিময়ে জাল দলিল ও জটিলতা থাকা দলিলগুলো ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে খারিজ করে দেন।
অন্যদিকে, আদালত থেকে ডিক্রি পাওয়া বৈধ মালিকরা খাজনা দিতে গেলে পিয়নের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের দিনের পর দিন ঘোরানো হয়।
“আনন্দ কুমার ভূমি অফিসকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তদন্ত না হলে এর দায় জেলা প্রশাসনকে নিতে হবে।”- অভিযোগপত্রে গ্রামবাসী উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আনন্দ কুমার ও তাঁর সহযোগীরা সাধারণ মানুষের সাথে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। খাজনার চেকে ২৫০০ টাকা ফি আসার কথা থাকলেও তিনি দুই থেকে চার হাজার টাকা দাবি করেন। মানুষ সঠিক সেবা না পেয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসী অবিলম্বে আনন্দ কুমারসহ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনন্দ কুমার বলেন, অভিযোগ হওয়ার বিষয়ে আমার যানা নাই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আপনি অফিসে আসেন বলে ফোন কেটে দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অভিযোগের কাগজটি এখনো আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি আপনার কাছ থেকে শুনলাম অভিযোগ হলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে