বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

তবে কি পাল্টাপাল্টি হামলার দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

তবে কি পাল্টাপাল্টি হামলার দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?
তবে কি পাল্টাপাল্টি হামলার দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের বৈরী এই দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বক্তব্য, সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক ইঙ্গিত নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পাল্টাপাল্টি হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানালেও তেহরান এটিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিভিন্ন ঘাঁটিতে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরাসরি হামলার ঘোষণা দেয়নি, তবুও এই প্রস্তুতিকে তেহরান হুমকি হিসেবেই দেখছে।

প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে কি ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে না? অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, তেহরান এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকে না। এর আগেও আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য কোনো সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও অবকাঠামো। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং একাধিক দেশে তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসসহ বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্যে উঠে এসেছে, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। এসব ঘাঁটি থেকে শুধু নজরদারি নয়, নিয়মিত সামরিক মহড়া ও অপারেশন পরিচালনা করা হয়।

বিশেষ করে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে বাহরাইনে অবস্থিত নৌঘাঁটি অঞ্চলজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রমে বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের আছে কি না এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত আঞ্চলিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান সম্পর্ক এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও সামান্য ভুল হিসাব পুরো অঞ্চলকে বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬


তবে কি পাল্টাপাল্টি হামলার দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের বৈরী এই দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বক্তব্য, সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক ইঙ্গিত নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পাল্টাপাল্টি হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানালেও তেহরান এটিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিভিন্ন ঘাঁটিতে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরাসরি হামলার ঘোষণা দেয়নি, তবুও এই প্রস্তুতিকে তেহরান হুমকি হিসেবেই দেখছে।প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে কি ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে না? অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, তেহরান এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকে না। এর আগেও আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য কোনো সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও অবকাঠামো। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং একাধিক দেশে তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসসহ বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্যে উঠে এসেছে, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। এসব ঘাঁটি থেকে শুধু নজরদারি নয়, নিয়মিত সামরিক মহড়া ও অপারেশন পরিচালনা করা হয়।বিশেষ করে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে বাহরাইনে অবস্থিত নৌঘাঁটি অঞ্চলজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রমে বড় ভূমিকা রাখছে।তবে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা ইরানের আছে কি না এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত আঞ্চলিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে।সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান সম্পর্ক এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও সামান্য ভুল হিসাব পুরো অঞ্চলকে বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত