শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মী গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ, ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ আখ্যা
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাজশাহী মহানগরীর তিন কর্মীকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে সংগঠনের রাজশাহী মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, রাজপাড়া থানা পুলিশ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাজশাহী মহানগরীর কর্মী চাঁদ সওদাগর, মুরাদ ও বিদ্যুৎকে তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অস্ত্র উদ্ধারের ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নেতৃদ্বয় অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহলের প্ররোচনায় এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তারা বলেন, সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই কি তাদের অপরাধ—এ প্রশ্ন আজ জনমনে উঠেছে। নির্দোষ শ্রমিক কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কারণে চাঁদ সওদাগরকে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এমনকি কারাবন্দি অবস্থায় তার অসহায় শিশু কন্যা মৃত্যুবরণ করলেও জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনের দাবি, চাঁদ সওদাগরের বিরুদ্ধে কোনো থানায় চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই। প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ (এভিডেন্স) দেখাতে পারেনি। যেসব মামলার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো ৫ আগস্টের আগের রাজনৈতিক মামলা ও জুলাই আন্দোলনের সময়কার বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’র সঙ্গে এ ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ বন্ধ করতে হবে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকা পালন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক কর্মীদের অবিলম্বে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সংগঠনটি অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরপরাধ কর্মীদের মুক্তির পথ সুগম করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে রাজপাড়া থানায় অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মালেককে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে