বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্ট

দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্ট
দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্ট

বাংলাদেশে মুসলিম পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি আবশ্যক নয়; বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতিই এ বিষয়ে আইনি ভিত্তি।


মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও দেশের বাস্তবতায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও নৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে।

২৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। আইনটিতে কোথাও সরাসরি স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ নেই। ফলে কাউন্সিলের অনুমতি থাকলে স্ত্রীর সম্মতি না থাকলেও তা আইনের পরিপন্থী নয়।

রায়ে আরও বলা হয়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আলাদা কাঠামোর মধ্যে আনা হয়। সে অনুযায়ী, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়।

এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তারা বলেন, নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তারা।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা বা মানসিক প্রলোভনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে বলেও তারা মত দিয়েছেন। এজন্য বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ালে তা আইন ও সমাজ, দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।

বিষয় : হাইকোর্ট বিবাহ

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬


দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
বাংলাদেশে মুসলিম পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি আবশ্যক নয়; বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতিই এ বিষয়ে আইনি ভিত্তি।মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও দেশের বাস্তবতায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও নৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে।২৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। আইনটিতে কোথাও সরাসরি স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ নেই। ফলে কাউন্সিলের অনুমতি থাকলে স্ত্রীর সম্মতি না থাকলেও তা আইনের পরিপন্থী নয়।রায়ে আরও বলা হয়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আলাদা কাঠামোর মধ্যে আনা হয়। সে অনুযায়ী, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়।এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তারা বলেন, নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তারা।সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা বা মানসিক প্রলোভনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে বলেও তারা মত দিয়েছেন। এজন্য বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ালে তা আইন ও সমাজ, দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত