জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বারবার অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে নির্বাচনী কার্যক্রমে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নিরূপণের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে একাধিকবার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমনকি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া কিছু অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে পরিবর্তনের নজিরও রয়েছে। এসব কারণে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই দুই আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় ইসি।
গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও হঠাৎ করেই তা প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায় অনুসরণ করে গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনা-১, পাবনা-২ ও ফরিদপুর-২ আসনের সীমানা সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী পাবনা-১ আসন গঠিত হয় সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে। অন্যদিকে পাবনা-২ আসন থেকে সুজানগর উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার একই পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন বাদ দেওয়া হয়।
তবে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত গেজেটের সংশ্লিষ্ট অংশ আপিল বিভাগ স্থগিত করেন। রায়ে বলা হয়, লিভ টু আপিল দায়ের না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। ফলে কমিশনের করা সীমানা পরিবর্তন সাময়িকভাবে বহাল থাকে। এই রায়ের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর পরই পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বাগেরহাট ও গাজীপুরের আসন সীমানা সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার আগেই হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সীমানা পরিবর্তন করা হয়। এ ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষা করেনি কমিশন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বৃহস্পতিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন পুরোপুরি বাতিল হয়নি, বরং আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিষয় : জাতীয় নির্বাচন

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে