আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার ঘটনা তার জীবনের একটি বিশেষ দিনের সঙ্গে মিলে গেছে।
জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময়কার গণহত্যা ও বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে এই রায় দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার দিনটি ছিল তার ৫৮তম বিবাহ বার্ষিকী। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সোমবার (১৭ নভেম্বর ২০২৫) এই বহুল আলোচিত রায়টি ঘোষণা করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবনে দিনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই সময় শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে ছিলেন। মা ফজিলাতুন নেছার তত্ত্বাবধানে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তাই, ৫৮তম বিবাহ বার্ষিকীর দিনেই তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনতে হলো।
তড়িঘড়ি করে বিয়ের আয়োজন
১৯৬৭ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারে থাকা অবস্থায় মা ফজিলাতুন নেছার তত্ত্বাবধানে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ফজিলাতুন নেছা রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুধাবন করে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য চাপ এড়াতে কিছুটা তড়িঘড়ি করেই আকদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিলেন।
আকদ অনুষ্ঠান দ্রুত করার কারণ এম এ ওয়াজেদ মিয়ার লেখা গ্রন্থে শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি জানান, ১৯৬৬ সালে জাতির জনক কর্তৃক ঘোষিত ঐতিহাসিক ৬ দফার প্রতি বিপুল জনসমর্থন দেখে গভর্নর মোনেম খাঁর সরকার তখন দেশের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে তাকে বারবার গ্রেফতার করতে শুরু করে। পরিশেষে তাকে পাকিস্তান দেশরক্ষা আইনে গ্রেফতার করে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দী করে রাখা হয়। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চাপের কারণেই মা ফজিলাতুন নেছা দ্রুত বিয়ের আয়োজন করেন।
আদালতের রায়ে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, যা শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর আনা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি অভিযোগের জন্য তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য দুটি গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্য অভিযুক্তদের সাজা অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ছাড়াও তার প্রশাসনের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একই অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী হওয়ার কারণে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিষয় : শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থান

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রকাশের তারিখ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে