সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
The Dhaka News Bangla

নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি | ছবিঃ টিডিএন

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়লেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। শহরের ১১১তম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি একাধিক দিক থেকে নতুন নজির স্থাপন করেছেন। প্রথমবারের মতো কোনো মুসলিম ব্যক্তি এই পদে অধিষ্ঠিত হলেন; একই সঙ্গে আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম নাগরিক হিসেবে মেয়র হওয়ার গৌরবও তার ঝুলিতে যোগ হলো। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৮৯২ সালের পর তিনি হতে চলেছেন নিউইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে জোহরান মামদানি দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিলেন। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর মতো অভিজ্ঞ দুই প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে তিনি এগিয়ে আসেন। তার এই বিজয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে একেবারেই ব্যতিক্রমী এবং যুগান্তকারী।

নির্বাচনের আগে বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন; তবে গত সেপ্টেম্বরে তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এদিন প্রায় ১৭ লাখ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ। আগাম ভোটের সংখ্যাও নতুন রেকর্ড গড়েছে; প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার আগাম ভোট প্রদান করেন।

অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন মামদানি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের সাথে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ভাড়াবৃদ্ধি স্থগিত, সব নাগরিকের জন্য সহজ সেবা, এমনকি বিনামূল্যে গণপরিবহন চালুর মতো সাহসী প্রতিশ্রুতিই তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।

শুরুতে পরিচিতি সীমিত থাকলেও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব দ্রুতই তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। ভোটারদের আস্থার প্রতিফলনই শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে ভোটের বাক্সে।

নির্বাচনে তার ঐতিহাসিক এই জয় নিউইয়র্ক নগরীর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচনা করলো। এখন নজর থাকবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে বাস্তবে রূপ নেয়, এবং তিনি কীভাবে বহুমুখী জনসমস্যার সমাধান করেন।

বিষয় : মেয়র জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটি

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫


নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়লেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি। শহরের ১১১তম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি একাধিক দিক থেকে নতুন নজির স্থাপন করেছেন। প্রথমবারের মতো কোনো মুসলিম ব্যক্তি এই পদে অধিষ্ঠিত হলেন; একই সঙ্গে আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম নাগরিক হিসেবে মেয়র হওয়ার গৌরবও তার ঝুলিতে যোগ হলো। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৮৯২ সালের পর তিনি হতে চলেছেন নিউইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে জোহরান মামদানি দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিলেন। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর মতো অভিজ্ঞ দুই প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে তিনি এগিয়ে আসেন। তার এই বিজয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে একেবারেই ব্যতিক্রমী এবং যুগান্তকারী।নির্বাচনের আগে বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন; তবে গত সেপ্টেম্বরে তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এদিন প্রায় ১৭ লাখ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার অংশগ্রহণ। আগাম ভোটের সংখ্যাও নতুন রেকর্ড গড়েছে; প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার আগাম ভোট প্রদান করেন।অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন মামদানি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের সাথে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ভাড়াবৃদ্ধি স্থগিত, সব নাগরিকের জন্য সহজ সেবা, এমনকি বিনামূল্যে গণপরিবহন চালুর মতো সাহসী প্রতিশ্রুতিই তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।শুরুতে পরিচিতি সীমিত থাকলেও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব দ্রুতই তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। ভোটারদের আস্থার প্রতিফলনই শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে ভোটের বাক্সে।নির্বাচনে তার ঐতিহাসিক এই জয় নিউইয়র্ক নগরীর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচনা করলো। এখন নজর থাকবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে বাস্তবে রূপ নেয়, এবং তিনি কীভাবে বহুমুখী জনসমস্যার সমাধান করেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৫ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত