নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় গত এক বছরে প্রায় ৪০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। উদ্বেগজনক হারে বাড়া এই সামাজিক ও মানসিক সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাইকেল র্যালি ‘ঐক্যতান’। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রেরক ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এই র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।‘জীবন কখনো একক সুরে চলে না, সুর ভাঙলে ঐক্যতান ধরতে হয়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত র্যালিটি অনুষ্ঠিত হয়। কোটবাড়ী দুর্গ থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি পাইকুড়া বাজার, বৈরাটি ও নীলাম্বরখিলা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কোটবাড়ী দুর্গে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক সংগঠন, সাইক্লিং গ্রুপ এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।আয়োজকরা জানান, কেন্দুয়া উপজেলার লোকসংগীত ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঐক্যতান’। এটি জীবনের উত্থান-পতনকে সুরের বন্ধনে ধারণ করার প্রতীক।র্যালিতে অংশ নিয়ে প্রেরক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শফিক আহমেদ ভুইয়া বলেন, ‘‘আত্মহত্যা কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতার গল্প নয়। এটি আমাদের সমাজে সহমর্মিতা, পারিবারিক সমর্থন এবং তরুণদের জন্য নিরাপদ মানসিক পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার প্রতিফলন। আমরা যদি সময়মতো একজন মানুষের পাশে দাঁড়াই, একটি কথাও অনেক সময় একটি জীবন বাঁচাতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘সুর ভাঙলেই জীবন থেমে যায় না, যদি আমরা একসাথে ঐক্যতান ধরতে পারি।’’আয়োজকরা জানান, র্যালিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিরাপদ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষ করে তরুণরা যাতে মানসিক সংকটে সহায়তা চাইতে পারে এবং পরিবার ও সমাজে সহমর্মিতা বাড়ে, সেই বার্তা দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের লক্ষ্য।উল্লেখ্য, প্রেরক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির ‘আলোর মুখোমুখি’, ‘প্রেরয়িতা’ (উন্মুক্ত পাঠঘর), ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’সহ বিভিন্ন কার্যক্রম তরুণদের জীবনবোধ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।শুভ্র/