বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
The Dhaka News Bangla

তদন্তে সব স্পষ্ট, তবু ফাইলবন্দি শাস্তি-পুঠিয়ায় বিচারহীনতার ভয়াবহ নজির

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আল মামুন খান, সহকারী প্রকৌশলী ও (ভারপ্রাপ্ত) পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ শহিদুল আলম এবং হিসাব রক্ষক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বাঁধছে।পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ শফিকুল ইসলাম কর্তৃক দাখিল করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি প্রথম জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া পিআইসি গঠন, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২০২৪ সালের (১৮ জুলাই) জারি করা এক স্মারকে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র মোঃ আল মামুন খান এবং ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে আনা ১৪টি গুরুতর অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয়। অভিযোগে পৌরসভার উন্নয়ন (এডিপি) তহবিল ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের অর্থ পিআইসি গঠন, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং কাগুজে কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার কথা উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের (২৮)  জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়।ওই পত্রের আলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় পরিচালিত সরকারি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক মেয়র মোঃ আল মামুন খান, সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলম এবং হিসাব রক্ষক মোঃ মাসুদ রানার বিরুদ্ধে পৌরসভার এডিপি ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে পিআইসি’র নামে অর্থ আত্মসাৎ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ও হিসাব জালিয়াতিসহ মোট ১৪টি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগ বিধি মোতাবেক  গত ২০২৫ সালের (২৭ এপ্রিল)  জারি করা এক সরকারি স্মারকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, সরকারি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকে বরখাস্ত করা হয়নি, কোনো বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়নি এবং কোনো ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়নি।পৌরসভা ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্তদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাববলয় রয়েছে। সেই ক্ষমতার নেটওয়ার্কের কারণেই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে সময়ক্ষেপণ করছে, যাতে ধীরে ধীরে ঘটনাটি জনদৃষ্টির আড়ালে চলে যায় এবং পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া যায়।সরকারি তদন্তের ফল প্রকাশের পরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুঠিয়া পৌরসভার সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব তহবিল আরও বেশি দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় সচেতন নাগরিক বলেন, সরকারি তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি কোনো শাস্তি না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কোথায়?এদিকে সরকারি নির্দেশনা জারি থাকা সত্ত্বেও কেন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এই প্রশ্ন এখন স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার বিভাগ পর্যন্ত সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের নীরবতায় জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ, আদৌ এই দুর্নীতির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না।স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং পুরো বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের নজরদারিতে আনা হোক।অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।যোগাযোগ করা হলে হিসাব রক্ষক মাসুদ রানার মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করা তিনি  সরকারি তদন্তকে মিথ্যা দাবি করে বলেন তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না। সাবেক মেয়র আল মামুন খানের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
১৩ ঘন্টা আগে

ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা তারা বলে না!

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এসব কর্মসূচির অর্থ কোথা থেকে আসবে তা স্পষ্ট করছে না একটি রাজনৈতিক দল। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত ক্যারাভ্যান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট দলটি শুধু কী কী খরচ করবে, তা বলছে; কিন্তু সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ধারণা দিচ্ছে না। এর ফলে ভবিষ্যতে এসব কার্ড বাস্তবায়নের নামে ভ্যাট বাড়িয়ে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। আবার আশঙ্কা রয়েছে, এসব সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে কেবল দলীয় লোকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এতে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি আরও বাড়বে।তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর একটি দল সরকারে এসে ১০ টাকায় চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের নামে দেশকে ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। এবার জনগণ অনেক বেশি সচেতন। টানা ১৬ বছর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এখন আর সস্তা প্রচারণা দিয়ে কিংবা ভোট কেনার কৌশলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়।গণভোট প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো ছিল সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নানা কৌশলে মানুষকে সে দিকেই প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কার কমিশন গঠনের সময়ও ওই দলটি প্রশ্ন তুলেছিল।এই সরকার কেন সংস্কার করবে এবং গণ–অভ্যুত্থানের পর কোনো সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না।নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি শুরু থেকেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণকে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেউ যদি এনসিপিকে পছন্দ না-ও করেন বা দলকে ভোট না-ও দেন, তবুও অন্তত সংস্কারের স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি।তিনি আরও বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবার দায়িত্ব গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়া। কারণ ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে এবং গণ–অভ্যুত্থানের পর যে ফ্যাসিবাদী ও অকার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল, তা আংশিক হলেও বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে ‘না’ জয়ী হলে পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল থাকবে এবং গণ–অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে।
১৪ জানুয়ারি ২০২৬

গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত হলে ব্যর্থ হবে জুলাই অভ্যুত্থান : নাহিদ ইসলাম

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। যদি গণভোটে ‘না’ জয়ী হয়, তাহলে আগের পদ্ধতি বহাল থাকবে এবং জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে ভোটের গাড়ি উদ্বোধন কালে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলাটা সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ছিল। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি একটা বিশেষ দল ‘না’ এর পক্ষে কথা তুলছে। তবে আমরা বলতে চাই গণভোটে ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে। আপনারা যদি আমাদের ভোট নাও দেন, তবুও আমাদের অনুরোধ থাকবে আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।তিনি আরও বলেন, যারা ‘না’-এর পক্ষে কথা বলছেন, তারা আসলে কী বার্তা দিতে চান তা স্পষ্ট নয়। ‘না’ ভোট পাস হলে যে ক্ষমতায় আসবে, সেই শক্তি স্বৈরাচারী হবে। তাই এবারের ভোট বাংলাদেশকে আগামী ৫০ বছর এগিয়ে নেওয়ার ভোট। মানুষকে সচেতনভাবে ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান রইল। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সরকারের আমলেও আমরা প্রশ্নফাঁসের ঘটনা দেখেছি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করে সংস্কার করবে। আওয়ামী লীগ ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে বলে দেশকে ছাড়খার করে দিয়েছে। সস্তা প্রচারণা করে মানুষের সাথে প্রতারণা করা যাবে না।অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সারাদেশে গণভোটের পক্ষে আজ থেকে আমাদের প্রচারণা শুরু হচ্ছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।এদিকে দেশব্যাপী গণভোটে ‘হ্যাঁ; ভোটের ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যে গণভোটের গাড়ি উদ্বোধন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে গাড়িটি উদ্বোধন করা হয়।
১৩ জানুয়ারি ২০২৬
চবিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

চবিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ অভিযান শুরু করে।দুদক কর্মকর্তারা জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কার্যালয় থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংগ্রহ করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।এদিকে নিয়োগের নথিপত্র তালাবদ্ধ রেখে চীনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য তাই সবগুলো তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বলেও জানান দুদক কর্মকর্তারা। একই সময়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তানিয়া মাহি বলেন, “২৪-এর অভ্যুত্থান, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় আমরা মেনে নেব না। গত দেড় বছরে যে নিয়োগগুলো হয়েছে, সেগুলো নিয়ে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এসব নিয়োগের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুক। অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রতিটি নিয়োগের প্রক্রিয়া, নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিচয় ও যোগ্যতা শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের বিরোধিতা করছি না, বরং জবাবদিহিতামূলক একটি ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করছি। দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই আন্দোলন আরও জোরালো হবে।”অভিযান শেষে দুদক জানায়, প্রাথমিক যাচাইয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী নিয়োগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ১৫০ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অভিযানের সময় একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিয়োগসংক্রান্ত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী জনবল প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার বিদেশে অবস্থান করায় কিছু নথি তখন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি দেশে ফেরার পর সেগুলো সংগ্রহ করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানায় দুদক।এর আগে গত ১২ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে শতাধিক জনকে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা খান প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের ভাই মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম। একইভাবে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হকের পুত্র ওই বিভাগেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।অভিযান শেষে বক্তব্যে দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সায়েদুল আলম বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত নিয়োগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সব নিয়োগই শূন্য পদে এবং নিয়ম অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ ও আবাসিক হলে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। সে কারণে পূর্বে অস্থায়ীভাবে কর্মরতদের একটি বড় অংশকে নিয়মিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিয়োগ কিংবা স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে প্রশাসন।ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। তিনি বলেন, তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মচারী আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ফলে এগুলোকে পুরোপুরি নতুন নিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেকেই পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকেই কর্মরত ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, এসব নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লেনদেন বা অসদুপায়ের অভিযোগ শোনা যায়, আবার কাউকে আগের ফ্যাসিবাদী শাসনের ঘনিষ্ঠ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। তবে মানবিক দিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিয়োগ নিয়মিত করেছে।শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ সংখ্যা ১ হাজার ২৫০টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০ জন। সে হিসেবে আরও অন্তত ২০০ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। তাই অতিরিক্ত নিয়োগের প্রশ্ন ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, যার মধ্যে দুজন এখনো যোগদান করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম। আমরা আউটকাম বেইজড এডুকেশন চালু করছি, যেখানে বর্তমান সংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষক প্রয়োজন হবে। নতুন হল চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাহিদাও বেড়েছে। অনেক বিভাগে পর্যাপ্ত স্টাফ নেই। এসব বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরোপুরি ন্যায্য ছিল বলেই আমি মনে করি। সত্য একদিন প্রকাশ পাবে।”প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা না মিললেও, সংগৃহীত নথিপত্র যাচাই শেষে দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহল।
১১ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

এনসিপি ছাড়ার কারণ জানালেন তাসনিম জারা

এনসিপি ছাড়ার কারণ জানালেন তাসনিম জারা

পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই এনসিপি থেকে সরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন ডা. তাসনিম জারা।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজিত এক সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।তাসনিম জারা বলেন, দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। সব জায়গায় জটিলতা। যে যার জবাবদিহি করবে, সেই তার নিয়োগকর্তা।তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলমান রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে যারা ক্ষমতায় থাকবে, তাদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে।তাসনিম জারা বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায়। তারা পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আর গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই আমি আমার দল থেকে সরে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এনসিপির হয়ে ঢাকা-৯ আসনে লড়ার কথা ছিল তাসনিম জারার। কিন্তু গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে জারা জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ থেকে অংশগ্রহণ করব।
১৩ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০ : ইরান

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০ : ইরান

অর্থনৈতিক সংকটে জনজীবনে নেমে আসা চরম দুর্ভোগের ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেছেন, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-প্রতিবাদে কমপক্ষে ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তাদের মধ্যে দেশটির বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। এই প্রাণহানির ঘটনায় সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন ওই কর্মকর্তা।দেশটিতে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-সহিংসতায় এত বেশিসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনায় ‌‌‘‘সন্ত্রাসীরা’’ দায়ী। তবে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক কতজন রয়েছেন, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য দেননি তিনি।বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জেরে ইরানে চলমান এই বিক্ষোভকে গত তিন বছরে ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি গত বছরের ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর ওপর আন্তর্জাতিক চাপও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ মোকাবিলায় দ্বিমুখী কৌশল বেছে নিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ-প্রতিবাদকে ‘ন্যায্য’ বলে স্বীকার করলেও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির সরকার।বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উসকানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। অজ্ঞাত ‘‘সন্ত্রাসীরা’’ সাধারণ জনগণের বিক্ষোভকে ছিনতাই করেছে বলে দাবি করেছে তেহরানের শাসকগোষ্ঠী।এর আগে, আন্তর্জাতিক এক মানবাধিকার সংস্থা ইরানের বিক্ষোভে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছিল। একই সঙ্গে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানায় সংস্থাটি।বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ইন্টারনেটের ওপর ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করায় দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সামরিক গ্রেডের জ্যামার ব্যবহার করে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্টারলিঙ্কের ইন্টারনেট সংযোগও অচল করে দিয়েছে ইরান।গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও সামনে এসেছে। এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখেছে রয়টার্স। ভিডিওতে গুলিবর্ষণ, গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে।সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।
১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

চবিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

চবিতে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ অভিযান শুরু করে।দুদক কর্মকর্তারা জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কার্যালয় থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংগ্রহ করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।এদিকে নিয়োগের নথিপত্র তালাবদ্ধ রেখে চীনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য তাই সবগুলো তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বলেও জানান দুদক কর্মকর্তারা। একই সময়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তানিয়া মাহি বলেন, “২৪-এর অভ্যুত্থান, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় আমরা মেনে নেব না। গত দেড় বছরে যে নিয়োগগুলো হয়েছে, সেগুলো নিয়ে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এসব নিয়োগের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুক। অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রতিটি নিয়োগের প্রক্রিয়া, নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিচয় ও যোগ্যতা শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের বিরোধিতা করছি না, বরং জবাবদিহিতামূলক একটি ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করছি। দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই আন্দোলন আরও জোরালো হবে।”অভিযান শেষে দুদক জানায়, প্রাথমিক যাচাইয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী নিয়োগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ১৫০ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও সঠিক নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অভিযানের সময় একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিয়োগসংক্রান্ত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী জনবল প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার বিদেশে অবস্থান করায় কিছু নথি তখন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি দেশে ফেরার পর সেগুলো সংগ্রহ করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানায় দুদক।এর আগে গত ১২ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে শতাধিক জনকে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা খান প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের ভাই মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম। একইভাবে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. বেগম ইসমত আরা হকের পুত্র ওই বিভাগেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।অভিযান শেষে বক্তব্যে দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সায়েদুল আলম বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত নিয়োগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সব নিয়োগই শূন্য পদে এবং নিয়ম অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ ও আবাসিক হলে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। সে কারণে পূর্বে অস্থায়ীভাবে কর্মরতদের একটি বড় অংশকে নিয়মিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিয়োগ কিংবা স্বজনপ্রীতির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে প্রশাসন।ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। তিনি বলেন, তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মচারী আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ফলে এগুলোকে পুরোপুরি নতুন নিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনেকেই পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকেই কর্মরত ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, এসব নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লেনদেন বা অসদুপায়ের অভিযোগ শোনা যায়, আবার কাউকে আগের ফ্যাসিবাদী শাসনের ঘনিষ্ঠ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। তবে মানবিক দিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিয়োগ নিয়মিত করেছে।শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের পদ সংখ্যা ১ হাজার ২৫০টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০ জন। সে হিসেবে আরও অন্তত ২০০ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। তাই অতিরিক্ত নিয়োগের প্রশ্ন ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, যার মধ্যে দুজন এখনো যোগদান করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম। আমরা আউটকাম বেইজড এডুকেশন চালু করছি, যেখানে বর্তমান সংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষক প্রয়োজন হবে। নতুন হল চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাহিদাও বেড়েছে। অনেক বিভাগে পর্যাপ্ত স্টাফ নেই। এসব বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরোপুরি ন্যায্য ছিল বলেই আমি মনে করি। সত্য একদিন প্রকাশ পাবে।”প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা না মিললেও, সংগৃহীত নথিপত্র যাচাই শেষে দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহল।
১১ ঘন্টা আগে
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের অভিযোগ

চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ–শাহরাস্তি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মমিনুল হকের বিরুদ্ধে তার ঘোষিত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রার্থী তার দাখিল করা হলফনামায় সম্পদের সঠিক তথ্য উল্লেখ করেননি, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর শর্ত লঙ্ঘনের শামিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন তা গ্রহণ করে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে।নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, চলমান মনোনয়ন আপিল শুনানির মধ্যেই এই অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। ইসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আপিল শুনানির শেষ দিনে বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।ইসি সূত্র আরও জানায়, প্রার্থীদের মনোনয়ন সংক্রান্ত আপিল শুনানি আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ইতোমধ্যে গত কয়েক দিনের শুনানিতে প্রায় দেড় শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন।এদিকে, একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) একটি লিখিত আবেদন করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে চাঁদপুর-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. মমিনুল হকের বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা ও আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনা করে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। আবেদনকারীর দাবি, তার কাছে এ সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘোষিত সম্পদের বাইরে মো. মমিনুল হকের নামে ও বেনামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনকারীর মতে, দুদক তদন্ত শুরু করলে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।এ সংক্রান্ত অভিযোগপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর হলফনামার অনুলিপি এবং কিছু সম্পদের তথ্যপ্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল

ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ক্রিকেট

ক্রিকেট

মুক্তার আলী: “শান্ত কি সবকিছু করে? নির্বাচকদের দায়িত্ব কোথায়?

মুক্তার আলী: “শান্ত কি সবকিছু করে? নির্বাচকদের দায়িত্ব কোথায়?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি রাজশাহী বিভাগের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে, এবারের দলে সুযোগ পাননি পেস অলরাউন্ডার মুক্তার আলী।এই পরিস্থিতিতে, রাজশাহী দলের নির্বাচক হান্নান সরকার মুক্তারকে অধিনায়ক শান্তর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে, মুক্তার আলীর প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র ও প্রশ্নবোধক। তিনি বলেন, “শান্তই কি সবকিছু? ও কি টিমের সবকিছু করে? খেলার জন্য ওর সাথে যোগাযোগ করতে হবে এমন দিন চলে এসেছে ভাই? তার সাথে কেন কথা বলতে হবে? আপনারা তো নির্বাচক, আপনাদের তো একটা দায়িত্ব আছে।”মুক্তার আলী ১৯৮৯ সালের ১০ অক্টোবর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে বরিশাল বিভাগের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। জাতীয় ক্রিকেট লিগে তার সর্বাধিক ১৬৮ রানের ইনিংস ও ৫ উইকেটের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক হলেও, পরবর্তীতে তাকে জাতীয় দলে আর দেখা যায়নি। বর্তমানে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স এখনও প্রশংসনীয়।রাজশাহী দলের নির্বাচক হান্নান সরকার মুক্তারকে অধিনায়ক শান্তর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিলেও, মুক্তার তার প্রতিক্রিয়ায় দলের নির্বাচকদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।মুক্তার আলীর এই প্রতিক্রিয়া রাজশাহীর ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও নির্বাচক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এটি নির্দেশ করছে যে, রাজশাহীর ক্রিকেট দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বিরাজ করছে, যা শুধুমাত্র দলীয় মনোবল নয় বরং ভবিষ্যতে দলের পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং নির্বাচকদের আরও দায়িত্বশীল এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যেন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায় এবং রাজশাহীর ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সারাদেশ

সারাদেশ

তদন্তে সব স্পষ্ট, তবু ফাইলবন্দি শাস্তি-পুঠিয়ায় বিচারহীনতার ভয়াবহ নজির

তদন্তে সব স্পষ্ট, তবু ফাইলবন্দি শাস্তি-পুঠিয়ায় বিচারহীনতার ভয়াবহ নজির

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আল মামুন খান, সহকারী প্রকৌশলী ও (ভারপ্রাপ্ত) পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ শহিদুল আলম এবং হিসাব রক্ষক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বাঁধছে।পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ শফিকুল ইসলাম কর্তৃক দাখিল করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি প্রথম জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া পিআইসি গঠন, কাজ না করেই বিল উত্তোলন এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২০২৪ সালের (১৮ জুলাই) জারি করা এক স্মারকে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র মোঃ আল মামুন খান এবং ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে আনা ১৪টি গুরুতর অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয়। অভিযোগে পৌরসভার উন্নয়ন (এডিপি) তহবিল ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের অর্থ পিআইসি গঠন, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং কাগুজে কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার কথা উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের (২৮)  জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়।ওই পত্রের আলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় পরিচালিত সরকারি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক মেয়র মোঃ আল মামুন খান, সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলম এবং হিসাব রক্ষক মোঃ মাসুদ রানার বিরুদ্ধে পৌরসভার এডিপি ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে পিআইসি’র নামে অর্থ আত্মসাৎ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি ও হিসাব জালিয়াতিসহ মোট ১৪টি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগ বিধি মোতাবেক  গত ২০২৫ সালের (২৭ এপ্রিল)  জারি করা এক সরকারি স্মারকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, সরকারি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের কাউকে বরখাস্ত করা হয়নি, কোনো বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়নি এবং কোনো ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়নি।পৌরসভা ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্তদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাববলয় রয়েছে। সেই ক্ষমতার নেটওয়ার্কের কারণেই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে সময়ক্ষেপণ করছে, যাতে ধীরে ধীরে ঘটনাটি জনদৃষ্টির আড়ালে চলে যায় এবং পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া যায়।সরকারি তদন্তের ফল প্রকাশের পরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুঠিয়া পৌরসভার সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব তহবিল আরও বেশি দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় সচেতন নাগরিক বলেন, সরকারি তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি কোনো শাস্তি না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কোথায়?এদিকে সরকারি নির্দেশনা জারি থাকা সত্ত্বেও কেন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এই প্রশ্ন এখন স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার বিভাগ পর্যন্ত সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের নীরবতায় জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ, আদৌ এই দুর্নীতির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না।স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং পুরো বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের নজরদারিতে আনা হোক।অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মোঃ শহিদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।যোগাযোগ করা হলে হিসাব রক্ষক মাসুদ রানার মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করা তিনি  সরকারি তদন্তকে মিথ্যা দাবি করে বলেন তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না। সাবেক মেয়র আল মামুন খানের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
মতামত

মতামত

রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের প্রতি ভাবনা: আমাদের পথচলার প্রয়োজনীয়তা

রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের প্রতি ভাবনা: আমাদের পথচলার প্রয়োজনীয়তা

রাষ্ট্র আসলে কার জন্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাই, রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি হলো সাধারণ মানুষ। জনগণই রাষ্ট্রকে বাঁচিয়ে রাখে, আর জনগণের প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটানোই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।আজকের বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান কিংবা নিরাপত্তা প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের প্রত্যাশা অনেক, কিন্তু প্রাপ্তি সব সময় সেই মানের হয় না। এখানেই রাষ্ট্রের করণীয় সবচেয়ে বেশি।রাষ্ট্রের উচিত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, যেন কেউ ক্ষুধার কষ্টে, চিকিৎসার অভাবে বা অন্যায়ের শিকার হয়ে অসহায় না হয়। একইসঙ্গে ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে কোনো নাগরিক আইন ও প্রশাসনের কাছে ভরসা হারিয়ে না ফেলে।আমরা যদি রাষ্ট্রকে মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ছাতা হিসেবে কল্পনা করি, তবে সেই ছাতার নিচে প্রত্যেকে সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিয়ে দাঁড়াতে পারবে। এজন্য দরকার স্বচ্ছ প্রশাসন, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক দায়িত্ববোধ।আমার বিশ্বাস, একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন সাধারণ মানুষ তার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারে, নিরাপদে বাঁচতে পারে এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার অনুভব করতে পারে।রাষ্ট্রের প্রতি এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলেই আমরা গড়ে তুলতে পারব একটি সুন্দর, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।
সম্পাদকীয়