ইয়াসির আরাফাত, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ||
বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার দেশের দায়িত্ব পালনে সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। উপাচার্য বলেন, ২৫ মার্চের পর জাতি যখন দিশাহারা ছিল, তখন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে ৭ নভেম্বরের ঘটনা দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান কৃষি, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক খাতকে শক্তিশালী করে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সমাজের বিচক্ষণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে রাজনীতিতে নতুন ধারা প্রতিষ্ঠারও চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বর্তমান সময়ের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান উপাচার্য।ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অধ্যাপক শরীফ আর রাফি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সারওয়ার জাহান।প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক শরীফ আর রাফি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ জনযুদ্ধ হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও সেনাসদস্যরাই প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সে সময় মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশকে সংকট থেকে রক্ষা করা হয়। তাঁর মতে, জিয়াউর রহমান রেমিট্যান্স, কৃষি ও তৈরি পোশাক খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেন। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সঠিক তথ্য তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।সভাপতির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেন ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের ইতিহাস জানার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমান, ড. আল মামুন সরকার, ড. আব্দুস সাত্তার, ড. মাহমুদুল আলম, ইমরুল কবির, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক (পিডি) ড. মো. রবিউল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সদস্য সচিব যীনাত মিয়া আজিজুল।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত