ইয়াসির আরাফাত, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ||
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০২০-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হেলাল উদ্দিন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হওয়ার কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।গত ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তিন শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ২০২০ শিক্ষাবর্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে হেলাল উদ্দিনকে মনোনীত করা হয়েছে।হেলাল উদ্দিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উভয় ডিগ্রিতেই তিনি ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৯৩ সিজিপিএ পেয়ে ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হন। এর আগে তিনি ইউজিসি মেরিট স্কলারশিপ-২০২০ লাভ করেন। স্কুলজীবনে জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাতেও ট্যালেন্টপুলে বোর্ড বৃত্তি পেয়েছেন তিনি।গত বছর জাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন হেলাল উদ্দিন। এর আগে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের নুরুল হুদা ও শামসুন নাহার দম্পতির সন্তান।প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়া আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন ও পরম আনন্দের মুহূর্ত। অনার্স প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারে ৪.০০-এর মধ্যে ৪.০০ পেয়ে প্রথম হওয়ার পর শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক সুব্রত সাহা স্যার বলেছিলেন, “তুমি চেষ্টা করলে তো প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেডেল পাবে।” সেই কথাই সেদিন আমার মনে একটি স্বপ্নের বীজ বুনেছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনার্স ও মাস্টার্সে ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হয়ে আজ সেই স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। এই অর্জন আমার বাবা-মা, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা, দোয়া ও অনুপ্রেরণার ফল। সবার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া প্রার্থী।’ইউজিসি জানিয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া মনোনীত শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে খসড়া তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের পর ৪৬৯ শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, মনোনীত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২২ ক্যারেট মানের সাড়ে চার গ্রাম স্বর্ণ ও ১০ গ্রাম রৌপ্য দিয়ে তৈরি একটি পদক এবং সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। ইউজিসি ২০০৫ সাল থেকে এ পদক দিয়ে আসছে।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত