কে এম সালাহউদ্দিন , জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর ||
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শাখাগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পেশাগত প্রস্তুতি, কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আল আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও আল আমিন সোসাইটির সভাপতি মো. মোবারক হোসাইন।শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের ভেতরে ইন্টারনাল কম্পিটিশন আছে, থাকাই ভালো। হেলদি কম্পিটিশন ভালো। কিন্তু আনহেলদি কম্পিটিশন যেন না থাকে। আনহেলদি কম্পিটিশন একটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়।” সব ভ গেটসছাত্র ও ছাত্রী শাখার ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একটি শাখা ভালো করলে অন্য শাখার শিক্ষকরাও সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়া এবং নিজেদের আরও ভালো করার প্রতিযোগিতায় নামা উচিত। তিনি বলেন, “ছাত্র শাখার শিক্ষকরা কি ছাত্রী শাখার সঙ্গে একটি কম্পিটিশনে যেতে পারেন না? এটাকেই হেলদি কম্পিটিশন বলে।”সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ভেঙে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মোবারক হোসাইন বলেন, ওই ঘটনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ওপরই প্রভাব ফেলেছে। তবে এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।তিনি বলেন, “এখানে প্যানিক ছড়ানোর কোনো দরকার নেই। আপনারা একেবারে কাম অ্যান্ড কুল থাকবেন। এখনো যদি কোনো প্রবলেম আসে, আমরা ইনশাআল্লাহ প্রবলেম সলভ করব।”প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও বিভিন্ন সংকটের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আল আমিন একাডেমির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আবেগ ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে দেওয়ার ঘটনার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় অতীতেও সংশ্লিষ্টরা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করেছেন।তিনি আরও বলেন, “আল আমিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর মর্যাদা আছে। প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে রক্ষা করা যায়, এ বিষয়টি আমাকে সবসময় স্পর্শ করেছে। যেখানে যেখানে বলা দরকার, যাওয়া দরকার, সব জায়গায় যাওয়া হয়েছে।”প্রতিষ্ঠানটির পেছনে শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব। তবে এজন্য কাউকে আতঙ্কিত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।শিক্ষার্থীদের কলেজমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মোবারক হোসেন বলেন, আল আমিন একাডেমির স্কুল পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলেও কলেজ পর্যায়ে সেই অনুপাতে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না। বিশেষ করে ব্যবসায় শিক্ষা বা কমার্স বিভাগে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিনির্ভর। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশের পাশাপাশি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষার গুরুত্বও ব্যাপক। তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমার্স শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে এ বিভাগে আরও বেশি শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।শিক্ষকদের পেশাগত শৃঙ্খলা ও প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেন গভর্নিং বডির সভাপতি। তিনি বলেন, শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার আগে যথাযথ পোশাক-পরিচ্ছদে ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে।তিনি বলেন, “আমি একজন শিক্ষকের সামনে যাচ্ছি কাউকে ইমপ্রেস করার জন্য নয়। ক্লাসে যাওয়ার সময় খেয়াল করবেন, এই পোশাকটি আমার ক্লাসে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত কি না।”শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “প্রিপারেশন ছাড়া কেউ ক্লাসে ঢুকবেন না।” সাম্প্রতিক ফলাফলে শিক্ষকদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভালো ফলাফল থেকে বোঝা যায়, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে শেখানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ধারাবাহিকভাবে মানসম্মত ফলাফল ধরে রাখতে শিক্ষকতার পাশাপাশি নিয়মিত প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।আল আমিন একাডেমির ইতিহাস তুলে ধরে মো. মোবারক হোসাইন বলেন, ১৯৭৭ সালে চাঁদপুরের সমাজহিতৈষী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আল আমিন সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরের বছর, ১৯৭৮ সালে সোসাইটির মাধ্যমে আল আমিন একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে আল আমিন সোসাইটি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাডেমির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আল আমিন একাডেমির অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম।বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গভর্নিং বডির সদস্য মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী এবং গভর্নিং বডির সদস্য ও আল আমিন সোসাইটির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া।এ সময় উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ফারুকুল ইসলাম, ছাত্রী শাখার ইনচার্জ ফারজানা আক্তার, গুনরাজদী শাখার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন এবং বাবুরহাট শাখার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল।সমাবেশ পরিচালনা করেন একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক রুহুল আমিন।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত