ডেস্ক নিউজ ||
চিত্রনায়ক সালমানশাহ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়ায় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় বিচারক পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেছেন রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলাটি করেন সালমানশাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন হলেন সালমানশাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া অভিযোগে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অপমৃত্যু মামলা থেকে হত্যা মামলা১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমানশাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।আদালতের ওই নির্দেশনার পরদিন, ২১ অক্টোবর সালমানশাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহারে যেসব অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছেমামলার এজাহারে মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাঁদের ছোট ছেলে সালমানশাহের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। সেখানে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন।কিছুক্ষণ পর সালমানশাহের প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, তাঁর কিছু একটা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে শয়নকক্ষে সালমানকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে বসে ছিলেন সামীরার আত্মীয় রুবি।এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, সালমানের মা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য চিৎকার করে অনুরোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে পরিবারের সদস্যরা তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে চিহ্ন দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রথমে সালমানশাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।এজাহারে আরও বলা হয়, সালমানশাহের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করতেন। এ বিষয়ে তিনি ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন করেন। আবেদনে রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।সালমানশাহের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বোনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন মোহাম্মদ আলমগীর।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমানশাহকে হত্যা করেছেন। তবে মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে, তা প্রমাণিত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত