কে এম সালাহউদ্দিন , জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর ||
আকাশের অসীম নক্ষত্ররাজি, মহাবিশ্বের রহস্য আর অজানা জগতের প্রতি ছোটবেলা থেকেই প্রবল আকর্ষণ মারিয়া মাহজাবিন খানের। সেই আগ্রহই এখন তাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞানে গবেষক হওয়ার। মানুষের কল্যাণে গবেষণার জ্ঞান কাজে লাগানোই তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এই মেধাবী শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি ১ হাজার ১৯৯ নম্বর পেয়েছেন। জেলার সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার অবস্থান তৃতীয়।ফলাফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মারিয়া বলেন, আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত, মা-বাবার দোয়া এবং শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতাই তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি।মারিয়ার ভাষায়, “আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। তাঁর পরিকল্পনায় ছিল আমি এতটুকু ভালো ফলাফল করব। আমার মা-বাবা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষক তাঁদের যোগ্য পাঠদান ও আমার প্রতি যত্নের মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”শুধু নিজের সাফল্য নয়, সহপাঠীদের সাফল্যেও আনন্দিত মারিয়া। তিনি বলেন, বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। সবাই একসঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং আলহামদুলিল্লাহ ভালো ফল করেছেন।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মারিয়ার ভাবনাও বেশ স্পষ্ট। তার কাছে এসএসসির এই সাফল্য জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং এটি উচ্চশিক্ষা ও বৃহত্তর স্বপ্নের পথে প্রবেশদ্বার।মারিয়া বলেন, “এটি মাত্র একটি বৃহৎ জীবনের প্রবেশদ্বার, যেটি আজকে পার করলাম আমরা সকলে। ভবিষ্যৎ জীবন পরিকল্পনায় আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। তাঁর পরিকল্পনায় আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে তা না জেনেও আমার ইচ্ছা—আমি গবেষক হতে চাই।”ছোটবেলা থেকেই অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বা জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ। মহাবিশ্বের নানা অজানা বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং গবেষণা করতে চান তিনি। গবেষণার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার স্বপ্নও দেখেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।মারিয়ার স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারও। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। বাবা রোটারিয়ান পিপি মো. মোশতাক আহমেদ খান নোভা এইডের সিইও ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর। তিনি বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। মা শেখ খাদিজা বেগম ফরক্কবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক।বর্তমানে মা-বাবার সঙ্গে চাঁদপুর শহরের হাজী মহসীন রোডের প্রিমিয়ার টাওয়ারে বসবাস করছেন মারিয়া। পরিবারের শিক্ষা ও মূল্যবোধের পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন তিনি।মারিয়ার চোখে তার স্বপ্ন শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মা-বাবার দোয়া ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে জীবনে আলোকিত মানুষ হতে চান তিনি।“মা-বাবার দোয়া থাকলে, তাঁদের সংস্পর্শে থেকেই জীবনে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে চাই, উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে চাই। বাকিটা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা”—এই কথাতেই যেন ফুটে ওঠে আকাশের নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ী এক কিশোরীর স্বপ্ন।মারিয়ার এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলে একদিন চাঁদপুরের মাটি থেকেই হয়তো মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে কাজ করবেন একজন বাংলাদেশি নারী গবেষক। আর সেই স্বপ্নের প্রথম সাফল্যের গল্পটি লেখা হয়ে গেল এসএসসিতে জেলার তৃতীয় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের মধ্য দিয়ে।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত