মোঃ পায়েল , ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ||
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) এবং এর আশপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গ্যাস সংকট। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি থাকায় সারাদেশের মতো কুবিতেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।জানা যায়, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল এবং কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের বাইরের হোটেলের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখেও পড়ছেন তারা।এ বিষয়ে কুবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল বলেন, “আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে প্রত্যেকটি মুহূর্ত বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে, সেখানে গত কয়েক মাস যাবৎ বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে শিক্ষার্থীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই বিদ্যুতের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল ও একাডেমিক ভবনের কার্যক্রম নির্ভর করে। তাই একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে আমি চাই, উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান করা হোক।”লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) ইঞ্জিনিয়ার মো. জাকির হোসেন বলেন, “এখন সারাদেশেই বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে, যে কারণে অন্যান্য সব জায়গার মতো কুবিতেও লোডশেডিং হচ্ছে। এখানে আলাদাভাবে আমাদের কিছুই করার নেই।”আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত আলী বলেন, “প্রায় একুশ দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বলেছিলেন, আগস্ট মাসের প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি করা হয়েছে এবং মজুদ রয়েছে। পাইপলাইনেও কোনো সমস্যা নেই। অথচ এখনই গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকটও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এত লোডশেডিং হচ্ছে যে আমরা ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছি না। গ্যাস সংকটের কারণে খাওয়াদাওয়াও শঙ্কার মুখে পড়েছে। আমরা আশা করছি, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এই সংকটের সমাধান করবে।”বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, “আজ খাওয়ার জন্য হলের ডাইনিংয়ে গিয়ে দেখি, গ্যাস না থাকায় রান্না হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমাকে বাইরের হোটেলে গিয়ে খেতে হয়েছে। বাইরে খেতে গিয়ে দেখি, হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত মানুষের চাপ। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর খাবার পেয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা হলে থাকবে কীভাবে?”গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ইমাম উদ্দিন শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত