ইয়াসির আরাফাত, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ||
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ‘লোকাল অ্যাকশন, গ্লোবাল গোলস: ইএসডিও’স এক্সপেরিয়েন্স থ্রু প্রফেশনাল সোশ্যাল ওয়ার্ক লেন্স’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুমে এটি আয়োজিত হয়।সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন।ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহিদ উজ জামান এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবিপ্রবির সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান মো. অলিউল্লাহ চৌধুরী।মূল প্রবন্ধে ড. মো. শহিদ উজ জামান টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে পেশাদার সমাজকর্মের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে ১৯৮৮ সালের বন্যা পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমানে দেশের ৫৬টি জেলায় বিস্তৃত ইএসডিওর মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে অর্থায়নসহ ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা গেলে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে হাতে কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি যুক্ত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালুরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন বলেন, বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সমাজে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে সামাজিক সম্পৃক্ততা জরুরি। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু জ্ঞানচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।সভাপতির বক্তব্যে মো. অলিউল্লাহ চৌধুরী বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞান মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোছা. উম্মে হানী কুলসুম এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক তাইয্যেবা তাবাসসুম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের শেষে মাঠভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে একটি ফলপ্রসূ মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত