মোঃ আবু হানিফ , ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ||
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদের আবাসিক হলে ঘটে যাওয়া পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক আদেশনামায় এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টির সত্যতা সোমবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন উভয় তদন্ত কমিটির সভাপতি সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম এবং এনিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা।এর মধ্যে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহামকে এবং সদস্য-সচিব করা হয়েছে সংস্থাপন শাখা-২ এর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. মঞ্জুর হোসেনকে। অন্যদিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞাকে এবং সদস্য-সচিব করা হয়েছে কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এইচ. এম. সাগরকে। আদেশনামা অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং ২৪ জুলাই দুপুর আড়াইটার পর আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া উভয় হলের মূল ফটক, সীমানা প্রাচীরের লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন ও সুপারিশ দেওয়ার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।অপর এক আদেশনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ ও ২ আগস্ট টানা দুই দিন সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম বলেন, "আজই তদন্ত কমিটির দায়িত্বসংক্রান্ত চিঠি হাতে পেয়েছি। মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করব। আমরা উভয় হল সরেজমিনে পরিদর্শন করব এবং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।"অন্য তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা বলেন, "আজ সন্ধ্যার দিকে কমিটির চিঠি পেয়েছি। এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু করিনি। কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করব এবং যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত কার্যক্রম শুরু করব।"এদিকে, সাম্প্রতিক এসব সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। এরপরও তাদের ছাত্রত্ব বহাল থাকবে কি না, সেটিও আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত