প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
চান্দিনায় সড়কে প্রাণ গেল চিকিৎসক স্বামীর, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পিতা হাসপাতালে
ওসমান গনি , চান্দিনা প্রতিনিধি ||
ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এক নবদম্পতি। কিন্তু পথিমধ্যে ঘাতক গাড়ির নির্মম থাবায় মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন নিভে গেল। কুমিল্লার চান্দিনায় এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শান্ত চন্দ্র শীল (৩২) নামের এক চিকিৎসক।শুক্রবার (৩১জুলাই) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শান্ত চন্দ্র শীল লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ চন্দ্র শীলের একমাত্র ছেলে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান জনি জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি দ্রুতগতির লরি পেছন থেকে একটি পিকআপ ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঠিক সামনে থাকা ওই নবদম্পতির মোটরসাইকেলটিকে সজোরে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেল থেকে স্বামী ও স্ত্রী দুজনই ছিটকে মহাসড়কে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শান্ত চন্দ্র শীলকে মৃত ঘোষণা করেন।দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) জাকির সিকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছায় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লীতে খবর পৌঁছালে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবা কৃষ্ণ চন্দ্র শীলের তিন সন্তানের মধ্যে শান্তই ছিলেন একমাত্র পুত্র। মাত্র কয়েক মাস আগে পরম আনন্দে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। নতুন সংসার গুছিয়ে ওঠার আগেই না-ফেরার দেশে চলে যেতে হলো তাঁকে। আদরের একমাত্র ছেলের এই অকালমৃত্যুর খবর কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেননি বাবা কৃষ্ণ চন্দ্র শীল। শোকের আকস্মিকতায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। এক নিমেষেই একটি আনন্দমুখর পরিবারের সব আলো নিভে গিয়ে পুরো গ্রামজুড়ে এখন শুধুই স্বজনদের আহাজারি।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত