তানজিদ শুভ্র ||
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে অভ্যুত্থানভিত্তিক তিনটি নতুন বই। বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এই বইগুলোর পাঠ-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনের শুরুতে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।অনুষ্ঠানে একাডেমির প্রকাশিত 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রবন্ধ', 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গল্প' এবং 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া' শীর্ষক বই তিনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট সম্পাদকরা। প্রবন্ধ সংকলনটি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক ও গবেষক সহুল আহমদ জানান, বইটিতে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে অভ্যুত্থানকে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন শফিকের মতে, গল্পের সংকলনে স্থান পাওয়া লেখাগুলো নিছক গল্প নয়, বরং এগুলো উত্তাল জুলাইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সত্য ইতিহাসের দলিল। অন্যদিকে শিশুসাহিত্যিক আবিদ আজম জানান, সে সময় ছাত্র-জনতাকে উদ্বুদ্ধ করা স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়া ও স্লোগানগুলো স্থান পেয়েছে তার সম্পাদিত ছড়া সংকলনটিতে।আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির পরিচালক ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সমীর কুমার সরকার। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি মূলত গণ-আকাঙ্ক্ষারই ফসল। জাতীয় জীবনে এই আন্দোলনের যে অপরিসীম তাৎপর্য রয়েছে, তারই শৈল্পিক প্রতিফলন ঘটেছে লেখকদের রচনায়।আলোচনায় অংশ নিয়ে লেখক শিবলী আজাদ এবং কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তুহিন খান জানান, সমাজের নানা শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে সফল হওয়া এই অভ্যুত্থানের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়েও এখন বিচার-বিশ্লেষণ জরুরি। তাদের মতে, সংকলনগুলোর প্রতিটি লেখাই ইতিহাসের অনন্য দলিল হিসেবে কাজ করবে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সংকলনগুলো কেবল জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোর ঘটনাই তুলে ধরে না, সাথে অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক পটভূমিও পাঠকের সামনে স্পষ্ট করে। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ড. মাহবুবা রহমান।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত