ডেস্ক নিউজ ||
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনস্থল মাশহাদের পথে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, হামলায় মাশহাদের পথে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদেই খামেনিকে দাফন করার কথা রয়েছে।এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে তেহরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানি হামলার জেরে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়।এর আগে বুধবার ভোরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। ইরান ওমান উপকূলে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনা ও বন্দর এলাকায় হামলা চালায়। তবে বৃহস্পতিবারের হামলা আগের তুলনায় আরও ব্যাপক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে ইরান। বৃহস্পতিবার সকালে বাহরাইনে অন্তত দুইবার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয় রয়েছে।তবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে চালানো হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশে প্রবেশ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আইআরজিসিও বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলার দৃশ্য দেখা গেছে।সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, “কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশ অনুযায়ী ইরানে অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো প্রাণঘাতী হামলার জবাব দিতেও আমরা প্রস্তুত।”যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর ইরানের হুমকি মোকাবিলা এবং দেশটির সক্ষমতা দুর্বল করাই এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমৃদ্ধ বুশেহর ছাড়াও চাবাহার, কোনারাক, বান্দার আব্বাস ও সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একটি বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশের একটি রেলসেতুতেও হামলা হয়েছে। তবে গোলেস্তান ও মাশহাদের পথে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলো একই হামলার অংশ কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এদিকে ন্যাটো সম্মেলন শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানে বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “এটি ইরানের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ। যদি আবার এমন কিছু ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, “ভয় দেখানো এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো মূল্য নেই এ শিক্ষা যুক্তরাষ্ট্র এখনো নেয়নি। আমি স্পষ্ট করে বলছি, তোমরা হামলা করলে তার জবাব অবশ্যই পাবে।”সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পও ন্যাটো সম্মেলনে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি আর ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত