তানজিদ শুভ্র, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ||
নানা আয়োজন ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) ‘শিক্ষা-গবেষণা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবার ক্যাম্পাসে কোনো আলোকসজ্জা করা হয়নি।এদিন সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এবং বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম ও দুই উপ-উপাচার্য। পরে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা এবং বর্ণিল বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন অতিথিরা।বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় ইতিবাচক অবদানের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক অনন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ড. শামসুজ্জোহাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা মাদার বখশ ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া মন্ত্রী তাঁর মরহুম পিতা ফজলার রহমানের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষ কৃতি শিক্ষার্থীর জন্য একটি পদক চালুর প্রতিশ্রুতি দেন এবং সে লক্ষ্যে অর্থ প্রদানের ঘোষণা দেন।সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রমবিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে। ক্যাম্পাসের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এবং যুগোপযোগী গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের বিশেষ আনুকূল্য ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফাইসুল ইসলাম ফারুকী। প্রধান আলোচক ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম। এছাড়া প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবীবুর রহমান সভায় বক্তব্য দেন।আলোচনা সভায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকপত্রের মোড়ক উন্মোচন এবং একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব ও ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশীদ আলম।দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে প্রীতি খেলাধুলা এবং সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অধিকর্তা, প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত